জেনে নিন বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালন করুন নির্দিষ্ট নিয়ম মোতাবেক
পবিত্র হজ পালন। ছবি : সংগৃহীত
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের পঞ্চমটি। হজ শব্দের অর্থ 'কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা', ‘সংকল্প করা’ বা 'চক্রাকারে প্রদক্ষিণ করা'। নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট সময়ে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ, আরাফাত ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে গমনাগমন, মিনায় অবস্থান প্রভৃতি কাজ আল্লাহর নবী দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করাকে হজ হলে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর সামর্থবান মুসল্লীরা হ্জ পালন করে থাকেন। চলুন জেনে আসা যাক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করতে হয় :
প্রথম ধাপ প্রাক নিবন্ধন :
প্রাক নিবন্ধন ধাপের ক্ষেত্রে যা জানা প্রয়োজন তা হলো বাংলাদেশে সৌদি 'ই হজ সিস্টেমের' সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য হজের যাত্রীদের জন্য প্রাক্-নিবন্ধন পদ্ধতি চালু রয়েছে। নিজে অথবা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বৈধ হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধনের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে পেমেন্ট ভাউচারসহ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে।
যাত্রীর প্রাক্-নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হবে । প্রতি বছর সৌদি সরকারের সাথে চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতির ধারার ভিত্তিতে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। এর বাহিরে করা যায় না।
প্রাক্-নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো :
হজ ক্যাম্প, ঢাকা। ছবি : সংগৃহীত
প্রাক নিবন্ধন করতে যা যা লাগবে তা হলো : ১/ সরকার কতৃক প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্র। ২/ যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে প্রাক নিবন্ধন করতে পারবেন। ৩/ মোবাইল নম্বর লাগবে যেখানে এসএমএস পাওয়া হবে। ৪/ টাকার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য ৩০,০০০(ত্রিশ হাজার টাকা) আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য ৩০,৭৫২ (ত্রিশ হাজার সাতশত বায়ান্ন) টাকা জমা দিতে হবে।
প্রাক্-নিবন্ধন করা যাবে যেসকল জায়গায় : ১/ আপনার এলাকার ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে, ২/ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, ৩/ বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে, ৪/ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বৈধ হজ এজেন্সির মাধ্যমে, ৫/ এছাড়া পরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকায়। উল্লেখিত যেকোনো এক জায়গা থেকে হজযাত্রী নিজে অথবা তার পরিচিত কেউ প্রাক্-নিবন্ধন করতে পারবেন।
এরপর হজে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হলে হজযাত্রীর মোবাইলে এসএমএস পাওয়ার পর নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট এজেন্সি প্রাক-নিবন্ধন তথ্যভান্ডার থেকে হজ যাত্রীদের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হয়। এরপর প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি নিশ্চিত করলে পিলগ্রিম আইডি তৈরি করা হয়।
হজে যাওয়ার আগে করণীয় :
ছবি : ইউ এস নিউজ
প্রথমত আপনার পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট সংগ্রহ করে যাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করুন। আপনার প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করুন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, নিয়ম মেনে অবশ্যই ম্যানিনজাইটিস টিকা অথবা ভ্যাকসিন দিয়ে নিন। হজের নিয়ম জানার জন্য একাধিক বই রয়েছে। প্রত্যেক হজযাত্রীদের বই পড়া উচিত। আর যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁরা অন্য হাজিদের সঙ্গে হজ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।
ঢাকার হাজি ক্যাম্পে অবস্থান :
বিমানে যাত্রার আগে হাজি ক্যাম্পে যতদিন অবস্থান করবেন নিজ উদ্যোগে আপনার মালপত্র খেয়াল রাখবেন অবশ্যই।
ব্যাগে জিনিসপত্র রাখার নিয়মকানুন :
বিমানে উড়ার ক্ষেত্রে হাতব্যাগে ছুড়ি, কাঁচি, দড়ি এসব কোন কিছু নেয়া যাবে না। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক হজযাত্রীর লাগেজে নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, হজ এজেন্সির নাম এবং সৌদি আরবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মোবাইল নম্বরসহ ঠিকানা ইংরেজিতে লেখা।
কোনো হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। চিকিৎসকের প্রেসকিপশনব্যতীত কোনো ওষুধ নিতে পারবেন না। চাল, ডাল, ফলমূল ইত্যাদিসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাওয়া যাবে না।
যেসব জরুরি কাগজপত্র সাথে থাকতে হবে :
হজের জন্য সহায়ক বই। ছবি : সংগৃহীত
১/ ১০ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি থাকতে হবে আর স্ট্যাম্প আকারের ৬ কপি ছবি। ২/ পাসপোর্টের ১-৫ পাতার সত্যয়িত ফটোকপি সাথে রাখুন। ৩/ এছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, টিকা কার্ড। আর নারী হজযাত্রীর ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত মাহরামের সঙ্গে সম্পর্কের সনদ থাকতে হবে। এছাড়াও ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ।
প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৭ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর দেয়া থাকে। ৭ সংখ্যার নাম্বারের প্রথম ৪ সংখ্যা এজেন্সির নম্বর আর শেষ ৩ সংখ্যা হজযাত্রীর পরিচিতি নম্বর। এই নম্বরটি জানা থাকা জরুরি। এতে করে হজযাত্রী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন ওয়েবসাইটে ওই হাজির তথ্য পেতে পারেন সহজে।
ইহরাম বাধা : এখানে প্রথম একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে হাজিদের ঢাকা থেকে মক্কায় যেতে হবে, নাকি মদিনায় তা জেনে নিতে হবে আগেই। যাত্রা যদি মদিনায় হয়, তাহলে আগেই ইহরাম বাঁধা নয়। যখন মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন সেই সময়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। তবে বেশিরভাগ হজযাত্রী আগে মক্কায় যেয়ে থাকেন। আপনাকে যদি মক্কা যেতে হয়, তাহলে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগে ইহরাম বাঁধা সুবিধাজনক হবে।
বিমানে নির্দিষ্ট সময়ে অনেকে ঘুমিয়ে থাকেন, আর বিমানে পোশাক পরিবর্তন করাটাও দেখতে খারাপ দেখায় অনেকটা। বাংলাদেশে বহু বছর আগে মুসলিম বিজয় এবং ইসলাম প্রচারের পর থেকে মুসল্লিরা হজ পালন করে আসছেন। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় অর্ধলক্ষ বা তারও বেশি মুসল্লিরা পবিত্র হজ্জ পালন করার জন্য বিমানযোগে মক্কায় যান। মহান আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে হজ্জ সুন্দরভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন।
জান্নাতুল ফেরদৌস
এস এম