বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ও এর ইতিকথা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: বিশ্ববিখ্যাত আউলিয়া বায়েজিদ বোস্তামীর চট্টগ্রাম আগমণ ও মাজারের ইতিহাস


বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

বায়েজিদ বোস্তামির মাজারের প্রবেশদ্বার; ছবি : উইকিপিডিয়া


প্রখ্যাত সুফি সাধক বায়েজীদ বোস্তামীর মাতৃভক্তির কথা কে না জানে? মায়ের পানের জন্য পানির গ্লাস হাতে নিয়ে সারারাত মায়ের মাথার কাছে দাড়িয়ে ছিলেন তিনি। পাছে মা ঘুম থেকে উঠে জল খেতে না পারে তাই মায়ের ঘুম না ভাঙিয়ে সারারাত দাঁড়িয়ে ছিলেন। অসামান্য এই মাতৃভক্তির জন্যেই হয়তো মায়ের দোয়ায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত আউলিয়া। তার একটি মাজার রয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামেই। আজ সেই বায়েজিদ বোস্তামী ও তার মাজারের কথা জানানো হবে।

পরিচিতি

বায়েজিদ বোস্তামীর পিতামহ ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিলেন না। তিনি ছিলেন অগ্নি উপাসক। পরে বায়েজিদ বোস্তামীর পিতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ৮০৪ সালে ইরানের বোস্তাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন বায়েজিদ বোস্তামী। সেই সময় কোন ব্যক্তি যে স্থানে জন্মগ্রহণ করতেন সেই স্থানের নাম ব্যক্তির নামের শেষ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই বোস্তাম শহরে জন্মগ্রহণ করায় বায়েজিদের নাম হলো বায়েজিদ বোস্তামী। তার পিতামাতার দেয়া প্রকৃত নাম ছিল আবু ইয়াজিদ বোস্তামী। ছেলেবেলায় খেলাধুলা বা দুষ্টামি না করে সেই বয়সেই তিনি ছিলেন স্থির ও স্থিতধী। পিতামাতার সেবা ও আল্লাহর উপাসনা করেই দিন কাটতো তার।

আরও পড়ুন : আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম

মাজারের পত্তন

বায়েজিদ বোস্তামী বাংলাদেশের চট্টগ্রামে এসেছিলেন বলেই অনেকের মত ও বিশ্বাস। তবে কোনো ঐতিহাসিক পুঁথি বা বিবরণে সে রকম কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কথিত আছে যে, বায়েজিদ বোস্তামী চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে যখন তার যাবার সময় হয়ে গেল, ভক্তরা তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি এখানেই থেকে যান। এসময় ভক্তদের ভালোবাসায় তিনি তার আঙ্গুল কেটে ফেলেন। সেখান থেকে রক্ত যখন মাটিতে পড়ে, সেখানেই প্রতিষ্ঠা হয় বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার। তবে অনেকই মনে করেন বায়েজিদ বোস্তামী আদতে চট্টগ্রাম আসেননি। সুফি আউলিয়ারা পাহাড়ের ওপর নির্জনে সাধনা করতেন। মূলত পাহাড়ের ওপর বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার তাকে উৎসর্গ করেই প্রতিষ্ঠা করা।
বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

বোস্তামির মাজার শরীফ, প্রার্থনা করে গাছে বাঁধা সুতা এবং মাজার সংলগ্ন পুকুরে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ; ছবি : সংগৃহীত


অবস্থান

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে একটি পাহাড়ের ওপর রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার। ১৮৩১ সালে প্রথম পাহাড়ের ওপর এই মাজার আবিষ্কার করা হয়। ওপরে উঠে প্রথমেই বায়েজিদ বোস্তামীর দরগা। ভক্তরা এখানে মোনাজাত করে থাকে। মাজারের নিচে রয়েছে এক বিশাল পুকুর। পুকুরটি মাজারের এক অন্যতম আকর্ষণ, কারণ পুকুরে রয়েছে পৃথিবীতে বিরলপ্রায় কাছিম ও গজারি মাছ। পৃথিবীতে আর কোথাও এই প্রজাতির কাছিম পাওয়া যায় না। বিশালাকৃতির এই কাছিমগুলোর একেকটার বয়স প্রায় ২৫০-৩০০ বছর।

আরও পড়ুন : ৪৫০ বছর পূর্বে নির্মিত বখশী হামিদ মসজিদ : চট্টগ্রাম

বিখ্যাত প্রাণীবিজ্ঞানী ম্যালকম স্মিথ ১৯৩১ সালে তার গবেষণায় তুলে ধরেন, ভারতবর্ষে 'নিলসোনিয়া নিগরিকেন টার্টেল' শুধুমাত্র চট্টগ্রামে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারেই পাওয়া যায়। কাছিমগুলোর বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায় এগুলো বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের প্রাণী নয়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, বোস্তামী যখন ইরান থেকে এদেশে আসেন তিনি তখন তার সাথে করে এ কাছিমগুলো নিয়ে এসেছিলেন।

মাজারে আগত প্রত্যেক ভক্তই কিছুটা সময় কাছিমদের জন্য রাখেন। প্রত্যেকেই কাছিম বা গজারিগুলোকে অয়াউরুটি, কলা, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে থাকে। বিশ্বাস করা হয় কোন কিছু প্রার্থনা করে যদি কাছিমদের খাওয়ানো হয় এবং কাছিমেরা তাদের হাত থেকে খাবার খেয়ে থাকে, তবে তার প্রার্থনা অবশ্যই পূর্ণ হবে। পাহাড়ের শেষ প্রান্তে আরও কিছু মাজার রয়েছে। এছাড়া কিছু গাছ রয়েছে। অনেকে মনে করেন কোন কিছু প্রার্থনা করে গাছে সুতা বাধলে সেই মনোকামনা পূর্ণ হবে।

ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম 

তথ্যসূত্র : https://www.google.com/amp/s/www.bd-pratidin.com/amp/Friday-various/2019/09/27/460575


Click Here To See More