সভ্যতা-সংস্কৃতি বিস্তারের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রত্যেকটি মসজিদ নির্মাণের পেছনে ছিল মহৎ উদ্দেশ্য
ছোট সোনা মসজিদ। ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস্
'মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই', জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার মাধ্যমে তিনি তার শেষ ঠিকানা বলে গিয়েছিলেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা যুগে যুগে বাঙালির জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে মিলে মিশে অনেকটাই এক হয়ে আছে। তিনি বিভিন্ন সময় তাঁর গান ও কবিতায় মসজিদের প্রসঙ্গ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মসজিদ মানেই যেন পরম স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণ স্থান।
সেই অদিকাল থেকেই আমাদের এই ভূমিতে নির্মিত মসজিদগুলো আলাদাভাবে কদর লাভ করেছে। রাজা বাদশাহরা সুনিপুন কারিগরের মাধ্যমে মসজিদগুলো বেশ যত্ন সহকারে নির্মাণ করেছিলেন। আজকের ধারাবাহিক পর্বটি এমনই কিছু মসজিদ নিয়ে।শায়েস্তা খানের মসজিদ :
শায়েস্তা খানের মসজিদটি অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরাতন ঢাকায়। ১৬৬৪ সাল থেকে ১৬৮৮ সালের মধ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলের খুব বাজে ভাবে আগুনে পুড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল মসজিদটি। কিন্তু পরবর্তীতে এটি পুনরায় সংস্করণ করা হয়েছে। তবে পুনরায় সংস্করণ করার ফলে এর আগে যে দৃশ্যপট ছিল তা অনেকটাই অনুপস্থিত বর্তমানে।
শাহবাজ খান মসজিদ :
ছবি : নাগরিক টিভি
এটি অবস্থিত ঢাকার পুরাতন আদালত এলাকায়। একজন বণিক ১৬৭৫ থেকে ১৬৭৬ সালের মধ্যে এটি তৈরি করেছিলেন। জানামতে, নাম না জানা সেই বণিকের নিজস্ব দরবার শরীফ আছে এখানে। শাহবাজ খান মসজিদের ভেতরকার সৌন্দর্য অনন্য। এখানে ভেতরকার দিকটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। পাথরের ডিজাইন করা বিভিন্ন নকশা দেখা যায় যা এখনও অক্ষত রয়েছে।
মুসা খান মসজিদ :
ছবি : একটি বিডি ডট কম
ঢাকায় অবস্থিত মুসা খান মসজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব কাছেই তৈরি করা হয়েছিল। ঈশা খানের ছেলে মুসা খানের মৃত্যুর পর তার নাতি মনোয়ার খান এটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদের বেশ ঐতিহাসিক মর্যাদা রয়েছে। এখানে রয়েছে তিনটি গম্বুজ এবং উপরে উঠার চমৎকার সিঁড়ি।
পাথরাইল মসজিদ :
ছবি : ভ্রমণ গাইড
ভাগনা উপজেলা, ফরিদপুরে এটি অবস্থিত। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ১৩৯৩ সাল থেকে ১৪০০ সালের দিকে এটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি আউলিয়া মসজিদ নামে বেশি পরিচিত। রাজশাহীর ছোট সোনা মসজিদ এর আদলে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দেখতে অনেকটা আয়তাকার আকৃতির। পাথরাইল মসজিদের হালকা খোদাই করা ছাদটি বেশ আকর্ষণীয়। এখানে পাঁচটি বের হওয়ার দরজা রয়েছে। পশ্চিম দিকের গমনপথের উল্টো দিকে রয়েছে মেহরাব। এখানে অসংখ্য টেরাকোটা শিল্পের নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে এখানে বসবাসকারী মানুষেরা প্রচুর পানির কষ্টে ভুগত। মসজিদ নির্মাণের সাথেই পাশে একটি পানির ট্যাংক খনন করা হয়েছিল। মসজিদের কাছে রয়েছে আব্দুল্লাহ খান ও ফকির সলিমুদ্দিন এর কবর।
গয়ঘর মসজিদ :
ছবি : প্রথম আলো
এটি মৌলভীবাজারে ছোট পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। সুলতানি আমলে শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ ১৪৭৬ সালে এটি নির্মাণ করেছিলেন। সম্পূর্ণ মসজিদ টাইলস দিয়ে তৈরি করা। মসজিদটি প্রায় ১৮ ফুট লম্বা। এখানে রয়েছে তিনটি বড় ও ছয়টি ছোট দরজা। পূর্ব দিকে বাঘের থাবার আকৃতির ডিজাইন রয়েছে। ভেতরের দিকে উপরে আরবিতে বিভিন্ন লেখা রয়েছে।
বজরা শাহী মসজিদ :
ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদ, নোয়াখালী। ছবি : উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাজরা ইউনিয়নের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হল বাজরা শাহী মসজিদ। ১৭৪১ সাল থেকে ১৭৪২ সালে মুঘল সাম্রাজ্য মুহাম্মদ শাহ এর শাসন আমলে এটি নির্মাণ করেছিলেন আমানুল্লাহ। এই মসজিদটি চতুর্ভুজাকৃতির। এখানে রয়েছে তিনটি গম্বুজ এবং খুবই সুন্দর মিনারাত। মসজিদের ভেতরের দিক তিনটি ভাগে বিভক্ত।