সুবিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার বাংলার প্রাচীন মুসলিম সভ্যতার নিদর্শন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঐতিহাস নিদর্শন হিসেবে ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকেরা মসজিদগুলো ভ্রমণ করেন
কারুকার্যখচিত মসজিদের প্রবেশপথ, ইটনা শাহী মসজিদ। ছবি : মাইলস্ টু গো বিফোর আই স্লিপ
বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বেশ সমৃদ্ধশালী। বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক অবকাঠামোগুলো আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয় অতীত ইতিহাস, চমৎকার ব্যবস্থাপনা এবং সোনালী অতীতের সাথে। একটা সময়ে টেরাকোটা শিল্প ছিল যেকোনো কারুকার্যের ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়াও তখনকার সময়ে যেকোন নির্মাণ কাঠামোর ক্ষেত্রে শৈল্পিক মনোভাব ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে বেশ গুরুত্ব আরোপ করা হতো। সেসব শৈল্পিক নিদর্শনের উদাহরণ মিলে বিভিন্ন মসজিদগুলোতে। বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আজও টিকে আছে ঐতিহাসিক মসজিদগুলো।
দারাসবাড়ি মসজিদ :
দারাসবাড়ি মসজিদ। ছবি : সংগৃহীত
ইলিয়াস শাহী আমলে নির্মিত হয়েছিল দারাসবাড়ি মসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এটি নির্মাণ করেছিলেন সুলতান ইউসুফ শাহ ১৪২৭ সালে। এখানে রয়েছে সাতটি সুদৃশ্য গমনপথ। তবে দুঃখের বিষয় হলো মসজিদের বেশিরভাগ অংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নামাজ ঘরের ভেতরকার পশ্চিম দিকে নয়টি মেহরাব রয়েছে। এখানে মেহরাবগুলো খুব চমৎকার টেরাকোটা শিল্পের নিদর্শন উল্লেখ করে।
খনিয়াদিঘি বা রাজবিবি মসজিদ :
খনিয়াদিঘি মসজিদ। ছবি : সংগৃহীত
খনিয়াদিঘি মসজিদটি রাজশাহীতে অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ এবং তিনটি ছোট ছোট উঁবু হওয়া গম্বুজ। মসজিদের দেয়ালের উপরভাগ সম্পূর্ণ ছেয়ে আছে টেরাকোটা নকশা দিয়ে এবং রয়েছে পাথরের ওপর খোদাইকৃত বিভিন্ন নকশা। পশ্চিম দিকে রয়েছে কালো পাথরের ওপর নকশা করা মেহরাব।
ধারণা করা হয়, রাজবিবি মসজিদ ১৫ শতকে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কুরআনের একটি আয়াত খোদায় করে লেখা হয়েছিল যা এখনও অক্ষত রয়েছে। তবে রাজবিবি নামে কে ছিল তা এখনও নিশ্চিত নয়।
গোয়ালদি মসজিদ :
ছবি : বাংলা নিউজ ২৪
বিখ্যাত পানাম নগরের অর্ধ মাইল দূরে উত্তর-পূর্ব দিকে এক গম্বুজবিশিষ্ট গোয়ালদী মসজিদ অবস্থিত। এটি সুলতানি শাসন আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেন হিজাব আর আকবর খান ১৫১৯ সালে। তিনটি খোদাইকৃত মেহরাব রয়েছে এখানে। মেহরাবগুলো পাথর দিয়ে ডিজাইন করা এবং এখানে আরব দেশের নকশা অনুসরণ করা হয়েছে। সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বিখ্যাত এই মসজিদটিতে টেরাকোটার অনন্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
বাগেরহাটের চুনাখোলা মসজিদ :
ছবি : ট্রিপজোন[
বহু বছরের পুরনো বাগেরহাটের চুনাখোলা মসজিদ বৈরি আবহাওয়ায় অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে। এই মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। এটি একটি বিচ্ছিন্ন জায়গায় অবস্থিত। অনেকটা আবাদকৃত ফসলের জমির ওপর এর অবস্থান।
আতিয়া জামে মসজিদ :
ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত আতিয়া জামে মসজিদ। মুঘল সাম্রাজ্যের শাসন আমলে ১৬১০ সাল থেকে ১৬১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। আতিয়া জামে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন রাজা জাহাঙ্গীর। তিনি শাহ বাবার প্রতি সম্মানার্থে এটি নির্মাণ করেছিলেন। শাহ বাবা ছিলেন বিখ্যাত সুফি সন্ন্যাসী।