ভারতের মুর্শিদাবাদ এক ঐতিহাসিক নাম আর এই ঐতিহাসিক স্থানে হতে পারে কম খরচে ভ্রমণের জন্য আদর্শ দুই দিনের ট্যুর। নবাবী আমলে বাংলার এই রাজধানীতে এখনও টিকে আছে অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন। ইতিহাসে আকর্ষণ থাকলে এই মুর্শিদাবাদ এবং সাথে পলাশীর প্রান্তর দর্শন হতে পারে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থান সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো :
কাটরা মসজিদ
লাল ইটের তৈরি স্থাপত্যশিল্পের অসাধারন নিদর্শন কাটরা মসজিদ; ছবি : টেইল টু ব্যাকপেকার্স
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ'র স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন এই কাটরা মসজিদ । চারদিকে ফুলের বাগানঘেরা ছোট ছোট লাল ইটের তৈরি চতুর্ভুজাকৃতির মসজিদটি অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগে মসজিদের চারকোণে চারটি মিনার থাকলেও বর্তমানে কেবল পশ্চিম দিকের দুটি মিনার আছে বাকি দুটি হারিয়ে গিয়েছে ভূমিকম্পের কারণে।
এভাবে হারিয়ে গিয়েছে মসজিদের পাচঁটির মধ্যে তিনটে গম্বুজ। মসজিদটির খোলা ও বিস্তৃত ছাদে একসঙ্গে বহু মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদে ঢোকার মুখে চোদ্দোটি সিঁড়ি্র নিচে রয়েছে মুর্শিদকুলি খাঁর সমাধি। নবাবের ইচ্ছানু্যায়ী এই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় তার সমাধিসৌধ স্থাপিত হয়েছিল বলে জানা যায়।
ঘড়ি টাওয়ার ও প্রায় হাজার খানের দরজার হাজারদুয়ারি প্রাসাদ; ছবি : উইকিপিডিয়া
শুধুমাত্র ঐতিহ্যে মোড়া এই ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারির টানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এই লালবাগে আসেন। প্রাসাদের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভাগিরথী একে আরও নৈসর্গিক শোভা দান করেছে। প্রাসাদ চত্বরকে বলা হয়ে থাকে 'নিজামত কিলা' বা 'কিলা নিজামত'।
এই চত্বরের মাঝে অবস্থিত ঘড়ি টাওয়ার। শোনা যায়, আসল-নকল মিলিয়ে প্রায় হাজারখানিক দরজা থাকার কারণে এর নাম হাজারদুয়ারি। আসলে হাজার দরজার হলেও এই প্রাসাদের নশোটা দরজা আসল, বাকি একশোটা শত্রুর চোখকে ফাঁকি দেয়ার জন্য তৈরি নকল দরজা। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটির প্রতিষ্ঠাতা অষ্টম নবাব হুমায়ুন জাঁ।
অনেকে এই প্রাসাদকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার তৈরি হিরাঝিল প্রাসাদ ভেবে ভুল করে। বস্তুত হীরাঝিল ভাগীরথী নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং হাজারদুয়ারি সিরাজ আমলের পরে তৈরি হয়েছে। প্রাসাদের মূল প্রবেশপথের সামনে দুটি সিংহের মূর্তি, আর ওপরে ওঠার ছত্রিশটি প্রসস্থ সিঁড়ি। এই অসাধারণ ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় বিভিন্ন নবাবদের ব্যবহার্য মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে।
নিজাম ইমামবাড়া ভারতের সবচেয়ে বড় শিয়া ইমামবাড়া; ছবি : উইকিপিডিয়া
হাজারদুয়ারির অপর প্রান্তে অবস্থিত এই ইমামবাড়া ভারতের বৃহত্তম শিয়া ইমামবাড়া বলে প্রচলিত। মহররম মাসের এক থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত ইমামবাড়াটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। এছাড়া অন্যসময় এর ভিতরে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ নেই।
মদিনা মসজিদ
হাজার দুয়ারি প্রাসাদের সম্মুখে সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতিচিহ্ন মদিনা মসজিদ; ছবি : উইকিপিডিয়া
প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী সিরাজউদ্দৌলা কারবালা থেকে পবিত্র মাটি এনে এই চার গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট মসজিদটি নির্মাণ করেন। ইমামবাড়া ও হাজারদুয়ারি প্রাসাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এটি অবস্থিত। সিরাজউদ্দৌলা নির্মিত কেবল এই দর্শনটিই এখনও ভাগীরথীর পাড়ে স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে।
কোলকাতা স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস সকালে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছে দেবে মুর্শিদাবাদ। এছাড়া শিয়ালদাহ থেকে লালগোলাগামী যেকোনো ট্রেনেও মুর্শিদাবাদ যাওয়া যাবে। শহর ঘুরে দেখার জন্য টোটো কিংবা ঘোড়ার গাড়ি পাওয়া যাবে।
যেখানে থাকবেন :
এখানে থাকার জন্য বাজেটের মধ্যে বেশ কিছু হোটেল পাওয়া যাবে।
হোটেল অন্বেষা - ০৯৪৩৪১১৫৪৭০
ফ্রেন্ডস হোটেল - ৯৭৩২৬০৯০৮৪
হোটেল ইন্দ্রজিৎ - ৯৮৩৬৩৮১৯৯৪
বি:দ্র: কোথাও ঘুরতে গেলে সেখানকার পরিবেশ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা আমাদের কর্তব্য।