কম খরচে ঘুরে আসুন কোলকাতা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কোলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি সব তথ্য

ঐতিহ্যের সমাহারে পরিপূর্ণ কোলকাতা। ছবি : ট্যুর রাডার

কোলকাতা, চলচ্চিত্রে দেখা বা বইয়ে পড়া আমাদের অতি পরিচিত এক শহর। হরহামেশাই টিভির পর্দায় দেখে মেলে ঐতিহ্যবাহী কোলকাতা শহরের। সুবিশাল হাওড়া ব্রিজ, মার্বেল প্যালেস, কলেজ স্ট্রিট, বিখ্যাত কফি হাউজ, রবীন্দ্র সদন, বেশ কিছু মিউজিয়ামসহ দেখার জায়গার অভাব নেই কোলকাতায়। ভারতের লোক তো বটেই, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী যায় কোলকাতায়। বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণ খুবই সহজ, আর কোলকাতা তো আমার দেশের একদমই কাছে।

চলুন ধাপে ধাপে কোলকাতা ভ্রমণের বিষয়গুলো দেখে নিই। ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার থেকে টুরিস্ট ভিসা এপ্লাই করতে হবে। কলকাতা যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন, বিমান সব উপায়ই আছে। এছাড়া জাহাজও চালু হয়েছে কোলকাতা যাওয়ার। কোলকাতা যেতে সর্বাধিক ব্যবহৃত পোর্ট হলো যশোরের বেনাপোল। এছাড়াও আরও কিছু পোর্ট আছে।

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস ও সরাসরি ট্রেন যাতায়াত করে। আমরা যেহেতু লো বাজেট ট্যুর নিয়ে কথা বলবো তাই লেখা সেই অনুযায়ীই হবে। ভিসা হয়ে গেলে রাতের বাসে রওনা দিয়ে দিন যশোরের উদ্দেশ্যে। ভাড়া পরবে ৪৮০-৫০০ টাকা। রাত ১১ টার দিকে রওনা দিলে পরদিন ভোরে পৌঁছে যাবেন বেনাপোল। ট্রাভেল ট্যাক্স আগে ঢাকা থেকে দিয়ে দিতে পারলে ভালো নাহলে বর্ডারেও দিতে পারবেন। বেনাপোলে বেশ ভিড় হয় তাই সকাল সকাল চলে গেলে লাইনে আগে দাঁড়ানো যায়।

সতর্ক হন ইমিগ্রেশনে। ছবি : ঢাকা ট্রাইবুন

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন শেষ করে হেঁটে ঢুকে যান ভারতের ভেতরে। এরপর আবার ইমিগ্রেশন। ভারতের ইমিগ্রেশনে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। ইমিগ্রেশন শেষ করে বের হওয়ার সময় কিছু মানি এক্সচেঞ্জ দেখতে পাবেন গেটের পাশে। সেখান থেকে ভালো রেট যারা দিচ্ছে তাদের থেকে টাকা ভাঙ্গিয়ে নিন কারণ এখানেই রেট বেশি পাবেন, যত ভেতরে ঢুকবেন রেট তত কমে আসবে। সিম কিনতে হলেও এখান থেকে কিনে নিন।

 এরপর অটো ধরে চলে যান বনগাঁ স্টেশনে। সেখান থেকে লোকাল ট্রেন পাবেন। সেই ট্রেনে চলে যেতে পারবেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। এই পর্যন্ত অটো ও ট্রেন ভাড়া বাবদ আপনার খরচ হবে ৬০ টাকার মত। শিয়ালদাহ থেকে বাস বা শেয়ার ট্যাক্সিতে চলে যান মার্কুইজ স্ট্রিটে বা নিউমার্কেট এলাকায়। এই এলাকায় একটু খোঁজখবর করলে বেশ কমের মধ্যেই মোটামুটি মানের হোটেল পেয়ে যাবেন। ৫০০ রুপি থেকে শুরু করে আরও বেশি টাকায় হোটেল পাওয়া যায়। হোটেল নেয়ার আগে রুম দেখে নিন। আশেপাশে খাবার-দাবারের ভালো রেস্টুরেন্টও পাবেন। মার্কুইজ স্ট্রিট ও নিউমার্কেট এলাকা মুসলিম প্রধান। যাদের খাবারের হালাল-হারামের ইস্যু আছে তারা নির্দ্বিধায় এসব এলাকায় খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন। খাবারের দাম বেশ কম।

জাদুর শহর কলকাতা। ছবি : ফেব হোটেলস

দুপুর নাগাদ ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ করে বের হয়ে যেতে পারেন সেদিনের সফরে। কোলকাতায় বাসে ঘুরাঘুরি করতে পারবেন। আর ৩-৪ জনের গ্রুপ গেলে ফোনে উবার বা অলো ইন্সটল করে নিতে পারেন কিংবা শেয়ারড ট্যাক্সি বা উবার পুল ব্যবহার করতে পারেন। কোলকাতায় দেখার মত প্রচুর স্থান আছে। অন্তত ৩/৪ দিন আপনাকে ঘুরতে হবে মোটামুটি বিখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখতে। এক্ষেত্রে কলকাতা রওনা দেয়ার আগেই অনলাইন থেকে তথ্য নিয়ে বা আগে ঘুরে এসেছেন এমন কারও সাহায্য নিয়ে পরিকল্পনা করে রাখুন। পরিকল্পনামাফিক না ঘুরলে অনেক বেশি সময় নষ্ট হবে সেইসাথে খরচও বাড়বে। তাই কতদিন থাকবেন ও আপনার বাজেট অনুযায়ী কোথায় কোথায় ঘুরা যাবে তা ঠিক করে নিয়ে ঘুরাঘুরি করাটাই ভালো।

ছবি : পিক্সাবেয়

এছাড়াও কোলকাতার হোটেলের দায়িত্বে যারা আছে তাদেরও সাহায্য নিতে পারেন। তবে মূল স্পটগুলো যাতে মিস না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

পরবর্তী পর্বে আমরা কোলকাতায় ৩/৪ দিনে কি কি ঘুরে দেখতে পারি সে সম্পর্কে জানাব। সেই সাথে ৩/৪ দিনের খরচ নিয়েও ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।