অত্যাধুনিক প্রযুক্তির শহর সিঙ্গাপুরের উত্থান যে নদীটিকে ঘিরে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সিঙ্গাপুর নদী : আধুনিক সিঙ্গাপুর মিশে আছে যেখানে
পাখির চোখে সমগ্র সিঙ্গাপুর নদী। ছবি : উইকিপিডিয়া
আর সব নদীর মত সিঙ্গাপুর নদীও যাত্রার শুরুতে ছিল সাধারণ এক জেলে গ্রাম। সেখান থেকে ব্রিটিশ আগমনের পর হলো নতুন এক বাণিজ্যকেন্দ্র। আর তা থেকে আধুনিক সিঙ্গাপুর হয়ে ওঠার সবকিছুতেই মিশে ছিল সিঙ্গাপুর নদী। এই নদীর মুখেই প্রথম পা রেখেছিলেন আধুনিক সিঙ্গাপুরের রূপকার স্যার স্ট্যামফোর্ড রাফল। এখানেই রাজকুমার সাং নিলা উতামা স্বপ্নে দুই পৌরাণিক সিংহের দেখা পেয়েছিলেন। যেখান থেকে পরবর্তীতে পুরো জায়গার নাম হয় সিঙ্গাপুর। আধুনিক সিঙ্গাপুর জন্ম থেকে বিকাশ সবখানেই তাই সিঙ্গাপুর নদীর প্রভাব অসামান্য।
ছবি : স্ট্রেইট টাইমস্[/caption]
সিঙ্গাপুর যত আধুনিক হয়েছে, যত বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। দিনে দিনে এই নদীর শোভাও ঠিক ততটাই বেড়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর নদী একাধারে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। একদিকের ডকে চলে বাণিজ্য। আর বাকি তিন জেটিতে ক্ষুদ্র সব নৌবহর সবসময় প্রস্তুত পর্যটকদের জন্য।
ব্রিটিশ আমল থেকেই সিঙ্গাপুর নদীর ধারে বৈকালিক নাশতার একটা চল শুরু হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় সেটি আরও বড় হয়েছে। বিকেল থেকেই পর্যটকে গিজগিজ করে এই নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। আলো ঝলমলে বার, এস্কেলেটরের মাধ্যমে শুন্যে ভাসমান রেস্তোরাঁ যেন পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখে। এছাড়া নৌবিহারের জন্য নির্ধারিত রবার্টসন, বোট এবং ক্লার্ক জেটিতে আছে অসাধারণ সব ক্লাব।
রাতের সিঙ্গাপুর নদী :
সিঙ্গাপুর নদীর আসল সৌন্দর্য ধরা পড়ে রাতের বেলায়। পানশালায় আগ্রহী পর্যটক, ককটেলপ্রেমী মানুষ, নাইটক্লাব কিংবা আশপাশের আলো ঝলমলে পরিবেশে চমৎকার একটি ডিনার, যার যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থাই আছে এখানে।
জমকালো আয়োজনে মানুষের আনাগোনা রাতভর। ছবি : স্ট্রেইট টাইমস্
ক্রেজি এলিফ্যান্ট বারের গানের আসর বেশ বিখ্যাত। এছাড়া পর্যটকদের শৈশবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য আছে লেভেল আপ পানশালা। এই পানশালা তৈরি করা হয়েছে আশির দশকের ভিডিও গেইমসের দোকানের আদলে। নিয়ন আলোর এই পানশালা বেশ জনপ্রিয়। নাইটক্লাব হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত জ্যুক নাইটক্লাবের অবস্থানও এই সিঙ্গাপুর নদীর ধারেই। প্রায় তিন দশক ধরে দারুণ সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে এই নাইটক্লাবটি। যাদের পক্ষে নাইটক্লাব কিংবা পানশালায় যাওয়া সম্ভব না, তাদের জন্য আছে ক্যানভাস। গানের পাশাপাশি এখানে প্রতি রাতেই চলে কমেডি নাইট শো। যা আপনার বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা এনে দিবে।
উপভোগ করুন অসাধারণ ডিনার : সিঙ্গাপুর নদীর আলো ঝলমলে পরিবেশে উপভোগ করতে পারেন চমৎকার একটি রাতের খাবার। সারাবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাদের পসরা নিয়ে এখানে হাজির হয়েছে অজস্র রেস্তোরাঁ।
নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। ছবি : হোটেলস্ ডট কম
টঙকাঙ রিভার বোট ডাইনিং-এ বসে আপনি চলে যেতে পারেন অতীতে। উনবিংশ শতকের ব্রিটিশ পরিবারের মত আপনিও সিঙ্গাপুর নদীর উপরে উপভোগ করতে পারেন ডিনার। টঙকাঙ রিভার বোট সিঙ্গাপুরের শেষ টঙকাঙ। টঙকাঙ অর্থ কাঠের তৈরি হালকা নৌযান বিশেষ। কালের আবর্তে সব হারিয়ে গেলেও শেষ একটি টঙকাঙ আজও টিকে আছে পর্যটকদের মনোরঞ্জন করার জন্যে। আর এখানে আপনাকে পরিবেশন করা হবে দুর্দান্ত সব পশ্চিমা খাবার।
এছাড়া ১৯৪০-এর দশকের সিঙ্গাপুরের পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আছে তোমো ইজাকায়া। যেখানে আপনি পাবেন জাপানিজ সব খাবার। সিঙ্গাপুর নদীতে ভ্রমণের সাথে আসল জাপানি খাবারের স্বাদ আপনাকে নিশ্চিতভাবে মুগ্ধ করবে।
ক্লার্ক জেটি এবং বোট জেটির তুলনায় কিছুটা কম ভিড় হলেও রবার্টসন জেটিতেই সবচেয়ে অসাধারণ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। মেক্সিকান সুপার লোকোর টাকো, শুনজু ইজাকায়াতে কয়লায় পোড়ানো রোস্ট অথবা কোরিয়ান রেস্তোরাঁ জু শিন জাং -এর বারবিকিউ পর্যটকের পছন্দের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই থাকে।
কী কী দেখবেন : দ্য আর্ট হাউজ নামে পরিচিত সিঙ্গাপুরের প্রথম সংসদ ভবনটি দেখে আসা যেতে পারে। এটি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার একটি। অনেকটা জাদুঘরের মত সাজানো এই জায়গায় দেশটির সবচেয়ে বিখ্যাত আর্টিস্টদের নানা কীর্তি সংরক্ষিত রয়েছে।
সুস্বাদু লোভনীয় স্বাদে ঝাল কাঁকড়া। ছবি : দ্যা হানিকম্বার্স
সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে পুরাতন সি-ফুড রেস্টুরেন্ট রেড হাউজের চিলি ক্রাব (ঝাল কাঁকড়া) এর স্বাদ নিতে ভুলবেন না। দীর্ঘ সময় ধরে এটি সিঙ্গাপুরে আসা পর্যটকদের জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
আপনার বই পড়ার অভ্যেস থাকলে ঘুরে আসতে পারেন লিয়াং কোর্ট থেকেও। জাপানিজ, ইংরেজি এবং চাইনিজ ভাষার প্রায় দেড় লাখ বইয়ের সংগ্রহ আছে এখানে। চাইলেই কিনে নিতে পারেন পছন্দের বই।
আর চার্লস এন্ড কিথ আপনার ফ্যাশন সংক্রান্ত যেকোনো চাহিদা মেটাবে। পায়ের জুতো থেকে জামা কিংবা প্রসাধনী, যা চাইবেন স্থানীয় এই দোকানে তার হদিস মিলবে।