ইনানী রয়েল রিসোর্ট: কক্সবাজারে শুনশান পরিবেশে সমুদ্রের সান্নিধ্যে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে শান্ত পরিবেশে উপভোগের সুযোগ
ছবি : বুকিং ডট কম
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষনের স্থান ইনানী সমুদ্র সৈকত। আর এই ইনানী সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষে ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে উঠেছে এক রাজকীয় রিসোর্ট 'ইনানী রয়েল রিসোর্ট'। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে ভ্রমনপিপাসু মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ছুটে আসেন কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্র সৈকতে। আর তাদের কথা মাথায় রেখেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো রিসোর্টটিকে। দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সমুদ্র সৈকত ছুঁয়ে গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক মানের বিশাল রিসোর্টে আপনি একসাথে উপভোগ করতে পারবেন সমুদ্রের গর্জন এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের অভিজ্ঞতা। সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষে রিসোর্টটি অবস্থিত হওয়ায় বারান্দা বা জানালায় বসেই সমুদ্র বিলাসের অনুভুতি পেতে পারেন আপনি। এছাড়া রিসোর্টে বসেই সুর্যোদয়, সূর্যাস্ত কিংবা সকাল, সন্ধ্যা, রাত উপভোগ করতে পারেন সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ বা পেতে পারেন সৌন্দর্যের এক অপার অনুভুতি।
ভরা পূর্ণিমায় ইনানী রয়েল রিসোর্ট। ছবি : ভ্রমণ গাইড
ইনানী রয়েল রিসোর্টের পরিবেশ আপনার সমুদ্র ভ্রমনে যুক্ত করবে আলাদা মুগ্ধতা। কিংবা রিসোর্টের নিরিবিলি প্রাঙ্গনে সমুদ্র চিৎকার বা পাখির কলকাকলীর যূথবদ্ধ মেলবন্ধনে ডুবে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না। সবুজে ঘেরা প্রাঙ্গনে অবস্থিত রিসোর্টটির নিমার্নশৈলী রিসোর্টটিকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। রিসোর্টে ঢুকেই চোখে পরে বিভিন্ন ফুলের সারিবদ্ধভাবে গাছ। বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপিত এই রিসোর্টে রয়েছে আটটি পৃথক ভবনে ৪৮টি কক্ষ। প্রতিটি ভবন তিনতলা বিশিষ্ট এবং সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে রিসোর্টের কক্ষগুলো দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর নামে নামকরন করা হয়েছে। রিসোর্টের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই আপনার ভ্রমনে তৃপ্তি যোগাবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রিসোর্টের প্রতিটি কক্ষ প্রায় ৩৩৮ বর্গফুটের। বিশালাকার এই কক্ষে অবস্থানকারী পর্যটকেরা পাবেন সকল সুযোগ সুবিধা। প্রত্যেকটি কক্ষে পাবেন এয়ার কন্ডিশান, সুন্দর সাদা চাদরে আরামদায়ক বিছানা,টেবিল-চেয়ার, কক্ষের সাথে পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম, বিশাল বারান্দা, ইন্টারনেট সুবিধা সহ যাবতীয় আধুনিক সকল সু্যোগ সুবিধা।এছাড়া নান্দনিক পর্দাসহ রুম সাজাতে প্রত্যেকটি রুমে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রংবেরঙের লাইট।
রুমের একঘেয়েমিতা দুর করতে আপনি চলে যেতে পারেন দ্বিতীয় তলার বেলকনিতে। যেখানে আপনি অনায়াসে উপভোগ করতে পারবেন সমুদ্র সৈকতের অপার সৌন্দর্য। রিসোর্টের জায়গাজুড়ে রয়েছে বসার ব্যবস্থা, যেখানে পর্যটকেরা রিসোর্টের পরিবেশে একান্তে বসে নিজস্ব সময় কাটাতে পারে। পুরো রিসোর্টে রয়েছে শোভাবর্ধনকারী ফুল এবং অন্যান্য গাছ। সবুজে ঘেরা এই প্রাঙ্গনে বসলে ঠান্ডা শান্তির হাওয়া নিঃসন্দেহে আপনার মনকে সতেজ করে তুলবে। এছাড়া রিসোর্টটিতে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য কিডস জোন সহ বারবিকিউ জোন,কার পার্কিং জোন।
ইনানী রয়েল রিসোর্টের নান্দনিক কক্ষ। ছবি : ইজি রুমস
রিসোর্টটিতে রয়েছে অভিজাত কক্ষ, নবদম্পতিদের জন্য লাক্সারি কক্ষ। রুমের ধরনভেদে : ৬,০০০-৮,০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দ অনুযায়ী রুম। তবে বিভিন্ন দিবস বা আয়োজনকে সামনে রেখে রিসোর্ট কতৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য রুম ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে থাকেন। যেকেনো রুম বুকিং এই পেয়ে যাবেন ২ জনের জন্য কমপ্লিমেন্টারি সকালের খাবার। এই রিসোর্টে রয়েছে সু-বিশাল কনফারেন্স রুম। জন্মদিন, বিয়ে, পার্টি বা মিটিং এর জন্য ১২,০০০-১৫,০০০ টাকায় বুকিং-এর মাধ্যমে কনফারেন্স রুমের সেবাটি চাইলেই গ্রহন করতে পারেন। অথবা রিসোর্টে প্রিয়জনের জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান বা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে চাইলে পাবেন সে সুবিধাও। এছাড়া রয়েছে রেন্ট কার সুবিধা, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা সুবিধাসহ ২৪ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা।
ছবি : ট্যুর ডট কম ডট বিডি
এই রিসোর্টের সবচেয়ে আকর্ষনীয় অংশ হচ্ছে কোরাল পয়েন্ট, যেটি রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। সুস্বাদু এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাবারের জন্য জনপ্রিয় এই রেস্টুরেন্টটিতে ইচ্ছা অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী বা বাইরের সকল পর্যটক সেবা গ্রহন করতে পারেন। এবার জানিয়ে দিচ্ছি যেভাবে যেতে পারেন ইনানী রয়েল রিসোর্টে : ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসে যেতে হবে কক্সবাজারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এসি, নন-এসি বা স্পেশাল সার্ভিসের বিভিন্ন বাজেটের বাস রয়েছে জনপ্রতি ৮০০-২,৫০০ টাকার মধ্যে। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন গ্রিন লাইন, সৌদিয়াসহ আরও অনেক বাস চলাচল করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের এই রাস্তায়। আপনি নিজের সাধ্যের মধ্যে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন বাস সার্ভিস। অথবা আকাশ পথেও পাড়ি জমাতে পারেন নিজের গন্তব্য স্থল কক্সবাজারে। এক্ষেত্রে ৩,০০০-১১,০০০ টাকার মধ্যেই সময়, ক্লাস অনু্যায়ী পেয়ে যাবেন বিমানের টিকিট। কক্সবাজার থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে ইনানী সমুদ্র সৈকতে যাবার জন্য জিপ বহুল ব্যবহৃত অথবা যেতে পারেন অটোরিকশা, সিএনজি বা ইজিবাইকেও। ইনানী সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষে মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশেই পেয়ে যাবেন ইনানী রয়েল রিসোর্ট।