বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার সাধারণত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজবংশ এবং বাইরের সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। তবে সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে রান্নার মাধ্যমে খাবারসমূহ প্রস্তুত করে। যা স্বাদে এবং দেখতে মূলধারা থেকে বেশ আলাদা। চলুন জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে।
পিঠা
সাধারণত শীতকালে পিঠার প্রচলন বেশি হলেও সারাবছরই এটি খাওয়া হয়; ছবি : বাংলা ট্রিবিউন
পিঠাভেদে স্বাদ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। মিষ্টি বা মসলাদার ঝাল ধরনের স্বাদ হয় প্রধানত। কিছু পিঠা আবার দুধ বা চিনির সিরায় ভিজিয়েও প্রস্তুত করা হয়। কিছু পিঠা ভাপে প্রস্তুত করা হয়। তাছাড়াও ভেজে কিংবা অন্য পদ্ধতিতেও বিভিন্ন ধরনের পিঠা প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। সাধারণত শীতকালে পিঠার প্রচলন বেশি। সমগ্র বাংলাদেশেই পিঠা নামক খাবারটি বেশ জনপ্রিয়।
নৈমত্তিক খাবারের তালিকায় ভর্তা খুবই উপাদেয় একটি খাবার; ছবি : সংগৃহীত
ভর্তা নৈমিত্তিক খাবার বাংলাদেশের। এটি বেশ ঝাল ধরনের খাবার। ভর্তা সবজি কিংবা মাছের হতে পারে। সবজি অথবা মাছ রান্না করার পর মরিচ এবং পেয়াজ যোগ করে পরবর্তীতে ভর্তা প্রস্তুত করা হয়। এটি বহুল জনপ্রিয় একটি খাবার। প্রতি বেলার খাবারের শুরুতে ভাত এবং তরকারীর পাশাপাশি ভর্তা পরিবেশন করা হয়ে থাকে।
বিরিয়ানি
সব সময় সকল পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় বিরিয়ানি অবশ্যই সকলের চাহিদায় থাকে; ছবি : বিডি জার্নাল
পুরান ঢাকার সবথেকে ঐতিহ্যবাহী এবং জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে বিরিয়ানি। এখানের সবচেয়ে পুরনো দোকানটি হচ্ছে হাজি বিরিয়ানি, যা ১৯৩০ সালে স্থাপিত হয়। গরু, খাসি অথবা মুরগীর মাংসের সাথে বিভিন্ন মসলা এবং রাইসের সমন্বয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। বিরিয়ানি রান্না এক ধরনের শিল্প। যথাযথ দক্ষতা ছাড়া বিরিয়ানি রান্না বেশ কঠিন। বিরিয়ানির উৎপত্তিস্থল নিয়ে মতভেদ থাকলেও বাংলাদেশ তার নিজস্ব পদ্ধতিতে বিরিয়ানি রান্না করে যা বেশ আলাদাই অন্যান্য জায়গা থেকে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের একটি ফুচকা; ছবি : বিডি সংসার
ভারতের পানি পুরিই অনেকটা বিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশে ফুচকা নামে পরিচিত হয়েছে। যদিও স্বাদে এটি পানি পুরি থেকে বেশ আলাদা। ঢাকা এবং এর আশেপাশে এর নাম যখন ফুচকা, চট্টগ্রামে এর নাম ফুসকা। এই খাবারটি মূলত ছোট, ক্রিস্পি যার মাঝে আলু, ডাল, মসলা, টক ইত্যাদি থাকে। স্ট্রিট ফুড হিসেবে এই খাবারটি তুমুল জনপ্রিয়। এই খাবারের উৎপত্তিস্থল নিয়েও বেশ মতভেদ রয়েছে।
সমুচা এবং সিঙ্গারা
আরেকটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড সিঙ্গারা এবং সমুচা; ছবি : সংগৃহীত
সমুচা ত্রিকোণাকার এবং তেলে ভাজা খাবার। এটিও বেশ জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড বাংলাদেশের। আলু, বাদামসহ বিভিন্ন মসলা যোগ করা হয়। সিঙ্গারা একটু নরম এবং গোলাকার আকৃতির। সিঙ্গারা এবং সমুচার মূল পার্থক্য এটিই যে সমুচা ত্রিকোণাকার এবং মুচমুচে আর সিঙ্গারা গোলাকার। সাধারণত সিঙ্গারা-সমুচা একসাথেই বিক্রি করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন : পাহাড়ে আহার : বিখ্যাত সব পাহাড়ি খাবার নিয়ে জানুন
ব্রেড
সকাল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তায় পরোটা, রুটি সব সময়ই উপভোগ্য; ছবি : ২৪ বাংলা নিউজ
নান রুটি, লুচি, পরটা ইত্যাদি খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলাদেশে। প্রতি হোটেলেই এই খাবারগুলো অসংখ্য পরিমাণে প্রস্তুত করা হয়। সকাল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তায় এগুলো বেশি খাওয়া হয়। এছাড়াও ঘরোয়া ভাবেও এগুলো প্রস্তুত করা হয়।
ফিরনি, ক্ষীর এবং পায়েস
জনপ্রিয় মিষ্টান্ন খাবারের তালিকায় রয়েছে ফিরনি, পায়েস ও ক্ষির; ছবি : সংগৃহীত
মিষ্টান্ন জাতীয় এই খাবারগুলো রাইস, দুধ এবং চিনি সহকারে প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও রাইসিন, বাদাম অথবা ফ্রুটস যোগ করা হয়ে থাকে।
মূলত এসব খাবারের পাশাপাশিও অসংখ্য জনপ্রিয় খাবার রয়েছে বাংলাদেশে। খাবারের উৎপত্তিস্থল এখানে না হলেও এর রন্ধনপ্রণালী এসব খাবারকে করেছে স্বাদে অনন্য। ঐতিহ্যবাহী এই খাবারসমূহ আমাদের মাঝে থেকে হারিয়ে যেন না যায়।