কেমন হতে পারে মহামারী পরবর্তী ভ্রমণ?

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নানা সতর্কতায় ফের চালু হবে পর্যটন শিল্প



করোনার আঘাত সামলে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে ইউরোপের পর্যটন অবস্থা, তাইতো স্পেনের পাবলো রুইজ পিকাসো বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের

করোনার আঘাত সামলে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে ইউরোপের পর্যটন অবস্থা, তাইতো স্পেনের পাবলো রুইজ পিকাসো বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের। ছবি : গেটি ইমেজ


কোভিড-১৯ এ থমকে গেছে বিশ্ব ভ্রমণ। সবকিছু বন্ধ। তবু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ এবং ব্যবসায়িরা ভবিষ্যতের ভ্রমণে আশার আলো খুঁজছেন। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে কেমন হতে পারে পরবর্তী ভ্রমণ চিত্র তাই নিয়ে ভাবছেন তারা। পরবর্তী সময়ে কেমন হতে পারে ভ্রমণচিত্র? এই পরিস্থিতির আগে যেমন ছিল আমরা কি আর ফিরতে পারব সেই অবস্থায়? যেভাবে মানুষের জীবন বদলে গেছে এবং বড় একটি পরিবর্তন এসেছে, সব মেনে নিয়ে কীভাবে আমরা ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারি? এইসব প্রশ্নই এখন সবার ভাবনায়। তবে মানুষ আবার ভ্রমণ করবে, এটা নিশ্চিত নয়, কখন থেকে। তবে এক সময় না এক সময় সব স্বাভাবিক হবেই। তখন নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে ভ্রমণ শুরু করবে ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। আর তাদের ভ্রমণে বাঁচবে বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানির অসংখ্য কর্মজীবী।


রেস্তোরাঁয় ও মানুষকে মাস্ক পরে যেতে হচ্ছে সতর্ক থাকতে

রেস্তোরাঁয় ও মানুষকে মাস্ক পরে যেতে হচ্ছে সতর্ক থাকতে। ছবি : ইউরো নিউজ



স্থানীয় ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করা

একটি ট্যুরিজম কোম্পানির সাথে জড়িত থাকে অনেকগুলো বিষয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মী, সরবরাহকারী, এজেন্সি পার্টনার, ছোট ব্যবসার মালিক, মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ, গ্রাহক, সামাজিক মানুষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকারী। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে মাঝারি এবং ছোট অনেক ট্যুরিজম কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। এদের নতুনভাবে নতুন শুরুতে এগিয়ে আসতে পারে টিকে যাওয়া ট্যুরিজম কোম্পানিগুলো। প্রয়োজনে তাদের সাথে কয়েক মাসের চুক্তিবদ্ধতায় কাজ করা যায়।


ফ্রান্সের আইকনিক আইফেল টাওয়ারে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে

ফ্রান্সের আইকনিক আইফেল টাওয়ারে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। ছবি : এএফপি



কম নয়, ভ্রমণ হোক আনন্দের

বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভ্রমণ না করে স্থানীয় গাইড এবং সরবরাহকারীদের পরামর্শ নিলে সহজেই নতুন জায়গা সম্পর্কে জানা হবে, বাঁচানো হবে এই করোনায় স্থগিত হয়ে যাওয়া অসংখ্য মানুষের রোজগারের পথও। স্থানীয় গাইডদের সাথে ভ্রমণে দারুণ মজা হয়। তারা এলাকার প্রতিটি জায়গা চেনে, মানুষ চেনে। আপনি যে কয়দিনই থাকুন, তাদের সাহচর্যে আতিথিয়তা একদম একঘেয়ে লাগবে না। আনন্দের সাথে কম সময়ের ভ্রমণও ভাল লাগা দেবে।


আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বিশেষ সতর্কতা

আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বিশেষ সতর্কতা। ছবি : সিজিটিএন



এয়ারপোর্টে সুরক্ষা ব্যবস্থা

লন্ডনসহ বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ইতোমধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নানা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে যাত্রীদের মধ্যে সবসময় এক বা দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখা (যারা একসঙ্গে থাকেন তারা ছাড়া), এয়ারপোর্টজুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদেরকে সমানভাবে ছড়িয়ে রাখা যেন এক জায়গায় বেশি লোকের ভিড় না হয়।


বিমানবন্দরগুলোতে নেয়া হচ্ছে তীব্র সতর্কতা ব্যবস্থা

বিমানবন্দরগুলোতে নেয়া হচ্ছে তীব্র সতর্কতা ব্যবস্থা। ছবি : সিজিটিএন


 হংকং বিমানবন্দরে যাত্রীদের পুরো শরীর জীবাণুমুক্ত করার একটি যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই যন্ত্রটি থেকে একটি স্প্রে যাত্রীর গায়ে ছিটিয়ে দেয়া হবে যা যাত্রীর ত্বক ও পোশাকে কোন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকলে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে তা মেরে ফেলবে। এই এয়ারপোর্টে রোবট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরে ঘুরে পরিষ্কার করার কাজ করতে থাকবে। কোন মাইক্রোবের উপস্থিতি টের পেলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে আঘাত হেনে তাদের ধ্বংস করবে। যেসব এয়ারপোর্টে ইলেকট্রনিক চেক-ইনের যন্ত্র আছে সেগুলো ব্যবহার করতে যাত্রীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বেশিরভাগ বিমানবন্দরেই বিভিন্ন ধরণের নির্দেশিকা সম্বলিত পোস্টার থাকবে। এমিরেটস দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য দ্রুত কোভিড-১৯ টেস্টের ব্যবস্থা করেছে যাতে ১০ মিনিটের মধ্যে ফল জানা যায়।


হংকং এর বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার বিশেষ যন্ত্র

হংকং এর বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার বিশেষ যন্ত্র। ছবি : বিজনেস ইনসাইডার



বিমানের ভেতরের পরিবেশ

প্লেনের ভেতরে ফ্লাইট এ্যাটেনডেন্টদের মুখে খুব সম্ভবত মাস্ক পরা থাকবে। মাস্ক পরে থাকতে হতে পারে আপনাকেও। প্রধান বিমান সংস্থাগুলো তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা উন্নত করছে, ফলে অন্তত একটা স্বস্তির ব্যাপার হবে যে ট্রে-টেবিল, সিটের হাতল, এবং সেফটি বেল্ট জীবাণুমুক্ত করা থাকবে। কোরিয়ান এয়ার বলেছে, তারা কেবিন ক্রুদের গাউন, গ্লাভস এবং আই মাস্ক দেবে। ফলে বিমানের ভেতর পিপিই পরা লোক দেখলে অবাক হবার কিছু নেই। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সেই বিমানে পুরোপুরি যাত্রীভর্তি করা হবে না, আপাতত মাঝখানের সিটগুলো খালি রাখা হবে। এত অবশ্য বিমানসংস্থাগুলো লোকসান গুনতে পারে, নইলে বাড়িয়ে দিতে পারে টিকিটের দাম।


বিমানের ভেতরেও মাস্ক পরে থাকতে হবে

বিমানের ভেতরেও মাস্ক পরে থাকতে হবে। ছবি : এএফপি



স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা

এই মহামারী যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে যেতে পারে তবে সেটি হচ্ছে স্বাস্থ্যসচেতনতা মেনে চলা, নিজেকে জীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষা রাখা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। মনে রাখতে হবে এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেবলমাত্র এখন সুস্থ থাকার জন্য নয়, সব সময়ের জন্যই এটি জরুরি। জাহাজ বা প্রমদতরীতে ভ্রমণ বলুন, এয়ারপোর্ট বা অন্য কোনো বাহনে, সব সময়ের জন্যই হাতের কাছে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান।


স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই সচল হোক ভ্রমণ

স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই সচল হোক ভ্রমণ। ছবি : নিউ ইয়র্ক টাইমস



 মহামারির প্রকোপ কমে আসলে অনেকেই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চেয়ে দেশের ভেতরের ভ্রমণকেই গুরুত্ব দেবেন সবচেয়ে বেশি। আবার অনেকে ঘরে বসেই ছুটি কাটাবেন। তখন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ কমে আসলে ভাবতে পারেন, সব সময় ছুটি কাটাতে দূরে যাবার প্রয়োজন নেই। এতে অবশ্য স্থানীয় ট্যুরিজম কোম্পানির কাজ কিছুটা হলেও বাড়বে। সবদিক থেকে মিলিয়ে দেখলে, ভ্রমণ যতটুকুই হোক, মানুষের নতুন করে বাঁচার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর এটাই এ মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি।  

নাবিলা বুশরা   এস এম