কেমন হতে পারে মহামারী পরবর্তী ভ্রমণ?
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নানা সতর্কতায় ফের চালু হবে পর্যটন শিল্প


স্থানীয় ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করা
একটি ট্যুরিজম কোম্পানির সাথে জড়িত থাকে অনেকগুলো বিষয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মী, সরবরাহকারী, এজেন্সি পার্টনার, ছোট ব্যবসার মালিক, মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ, গ্রাহক, সামাজিক মানুষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকারী। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে মাঝারি এবং ছোট অনেক ট্যুরিজম কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। এদের নতুনভাবে নতুন শুরুতে এগিয়ে আসতে পারে টিকে যাওয়া ট্যুরিজম কোম্পানিগুলো। প্রয়োজনে তাদের সাথে কয়েক মাসের চুক্তিবদ্ধতায় কাজ করা যায়।
কম নয়, ভ্রমণ হোক আনন্দের
বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভ্রমণ না করে স্থানীয় গাইড এবং সরবরাহকারীদের পরামর্শ নিলে সহজেই নতুন জায়গা সম্পর্কে জানা হবে, বাঁচানো হবে এই করোনায় স্থগিত হয়ে যাওয়া অসংখ্য মানুষের রোজগারের পথও। স্থানীয় গাইডদের সাথে ভ্রমণে দারুণ মজা হয়। তারা এলাকার প্রতিটি জায়গা চেনে, মানুষ চেনে। আপনি যে কয়দিনই থাকুন, তাদের সাহচর্যে আতিথিয়তা একদম একঘেয়ে লাগবে না। আনন্দের সাথে কম সময়ের ভ্রমণও ভাল লাগা দেবে।
এয়ারপোর্টে সুরক্ষা ব্যবস্থা
লন্ডনসহ বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ইতোমধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নানা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে যাত্রীদের মধ্যে সবসময় এক বা দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখা (যারা একসঙ্গে থাকেন তারা ছাড়া), এয়ারপোর্টজুড়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদেরকে সমানভাবে ছড়িয়ে রাখা যেন এক জায়গায় বেশি লোকের ভিড় না হয়।

বিমানের ভেতরের পরিবেশ
প্লেনের ভেতরে ফ্লাইট এ্যাটেনডেন্টদের মুখে খুব সম্ভবত মাস্ক পরা থাকবে। মাস্ক পরে থাকতে হতে পারে আপনাকেও। প্রধান বিমান সংস্থাগুলো তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা উন্নত করছে, ফলে অন্তত একটা স্বস্তির ব্যাপার হবে যে ট্রে-টেবিল, সিটের হাতল, এবং সেফটি বেল্ট জীবাণুমুক্ত করা থাকবে। কোরিয়ান এয়ার বলেছে, তারা কেবিন ক্রুদের গাউন, গ্লাভস এবং আই মাস্ক দেবে। ফলে বিমানের ভেতর পিপিই পরা লোক দেখলে অবাক হবার কিছু নেই। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সেই বিমানে পুরোপুরি যাত্রীভর্তি করা হবে না, আপাতত মাঝখানের সিটগুলো খালি রাখা হবে। এত অবশ্য বিমানসংস্থাগুলো লোকসান গুনতে পারে, নইলে বাড়িয়ে দিতে পারে টিকিটের দাম।
স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তা
এই মহামারী যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে যেতে পারে তবে সেটি হচ্ছে স্বাস্থ্যসচেতনতা মেনে চলা, নিজেকে জীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষা রাখা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। মনে রাখতে হবে এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেবলমাত্র এখন সুস্থ থাকার জন্য নয়, সব সময়ের জন্যই এটি জরুরি। জাহাজ বা প্রমদতরীতে ভ্রমণ বলুন, এয়ারপোর্ট বা অন্য কোনো বাহনে, সব সময়ের জন্যই হাতের কাছে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান।
নাবিলা বুশরা এস এম