একটি দেশকে ভালোমতো জানতে হলে তার বাজার, খাবার থেকে অনেকটাই ধারণা পাওয়া যায় দেশ সম্পর্কে। পুরান ঢাকার প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য। পুরান ঢাকার খাবারের সাথেও জড়িয়ে আছে পুরনো ঐতিহ্য।
আর শুধু ঐতিহ্য বলেই তো নয়, পুরান ঢাকার খাবার মানে সুস্বাদু, মশলাদার আর মজাদার সব খাবার। কাচ্চি, বিরিয়ানি, বাকরখানি, কাবাব, বিউটি লাচ্ছি আরও কত কি। কোনটা রেখে কোনটা খাবেন এ মধুর সমস্যা নিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয় ভোজন রসিকদের। পুরান ঢাকা মানেই তো খাবারের সম্ভার। তা নিয়েই আজ আপনাদের বলা হবে।
পুরান ঢাকার বিখ্যাত বিউটি লাচ্ছি; ছবি : দ্যা ডেইলি ইত্তেফাক
১৯২২ সালে দোকানের সূচনা। প্রথমে দোকানে শুধু লেবুর শরবত রাখতেন আবদুল আজিজ। তারপর লাচ্ছি আর ফালুদা বিক্রি করা শুরু করলেন। বলছি পুরান ঢাকার জনসন রোডে বিউটি লাচ্ছি এন্ড ফালুদা দোকানের কথা। লাচ্ছির জন্য একনামে প্রসিদ্ধ এই বিউটি লাচ্ছির দোকান। আর তাই লাচ্ছির স্বাদ পেতে এখানে ভিড় লেগেই থাকে ভোজনপ্রিয়দের।
বিউটি লাচ্ছির বিশেষত্ব হলও লাচ্ছি বা ফালুদাতে তারা কৃত্রিম কোন উপকরণ বা ভেজাল কিছু ব্যবহার করে না। এমনকি ফালুদাতে বাজারের তৈরি নুডুলস নয়, নিজেদের তৈরিকৃত নুডুলস ব্যবহার করে থাকে। সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতিদিনই খোলা থাকে বিউটি লাচ্ছি এন্ড ফালুদা দোকান। স্পেশাল লাচ্ছি ৪০ টাকা, নরমাল লাচ্ছি ৩০ টাকা, ফালুদা স্পেশাল ৮০ টাকা, ফালুদা নরমাল ৬০ টাকায় পাওয়া যায়। তাছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে মৌসুমি ফলের শরবতও পাওয়া যায়।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে অন্যতম একটি বাকরখানি; ছবি : অলিগলি ডট কম
বাকরখানি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। ঢাকার ইতিহাস বহু শতবছরের পুরনো, এত বছরের বিস্তৃতির মাঝে আজও টিকে আছে পুরান ঢাকার বাকরখানি। ধারণা করা হয় যে সুবেদার মুর্শিদকুলী খানের পুত্র আগা বাকের এর নাম থেকেই বাকরখানির নামকরণ। আগা বাকেরের প্রেমকাহিনীকে স্মরণীয় রাখতেই বাকরখানি নাম।
বর্তমানে পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজার, আলু বাজার, নয়া বাজার, রায়সাহেব বাজার, দয়াগঞ্জ, নাজিম উদ্দিন রোড, লালবাগে বাকরখানির দোকান বেশি দেখা যায়। এমনি শুধুই খাওয়া যায় বাকরখানি; এছাড়াও মাংস, দুধ, দিয়ে খেতেও বাকরখানির তুলনা হয় না। বাকরখানি ঢাকার ঐতিহ্য হলেও বাকরখানির দোকান মালিক ও কর্মচারী অধিকাংশই কিন্তু ঢাকার বাইরের, হবিগঞ্জের লোকেরাই বাকরখানি তৈরির কাজে যুক্ত বেশি।