জনপ্রিয় দশ মজার মজার থাই খাবার
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : স্বাদে ও গুণে অনন্য বিশ্বখ্যাত কিছু থাই খাবার
ছবি : সংগৃহীত
টুরিস্ট স্পট হিসেবে বিখ্যাত থাইল্যান্ডের খাবারদাবারও ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে বহু যুগ ধরেই। আমাদের দেশের মত ভাত এখানে প্রধান খাবার হিসেবে থাকলেও এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য খাবারে নারকেল দুধের ব্যবহার এবং বিভিন্নরকম থাই মশলার উপস্থিতি। এছাড়া মেন্যুতে স্যুপ এবং বিভিন্নরকমের সালাদের দেখাও মিলবে।
১। মশলাদার টম ইয়াম গুং : নারকেল দুধ আর ক্রিমের মিশ্রণে তৈরি স্যুপ জাতীয় খাবার টম ইয়াম গুং কে বলা হয়ে থাকে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। এতে উপকরণ হিসেবে যোগ হয় চিংড়ি, টমেটো, মাশরুম, কোলগান, খানিকটা লেমনগ্রাস এবং দু'একটি চুন পাতা।
২। খাও সই :
ছবি : টেস্টিং টেবিল
টাটকা ডিম, নুডুলস, চিকেন বা বীফ, সাথে পরিচিত বিভিন্ন থাই মশলার সংমিশ্রণে তৈরি খাও সই থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের বেশ জনপ্রিয় খাবার। এর সাথে নারকেলের গরম ঝোলও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পরিবেশনের সময় বাধাকপি, পেয়াজ এবং বিভিন্ন ভেষজ দিয়ে সাজানো হয় এই খাবারের থালাটি।
৩। খাও মন গাই : খাও মন গাই মূলত একটি চিকেনের তৈরি ডিশ যাতে চিকেন চকচকে করে সেদ্ধ করা হয় যার সাথে থাকে বিভিন্নরকমের সস। সসে ডুবিয়ে এই চিকেন খাওয়া হয়ে থাকে। সাথে থাকে স্টিমড রাইস। তুলনামূলক মশলা কম থাকায় বাচ্চারাই খাও মন গাই বেশি পছন্দ করে থাকে।
৪। ম্যাসামেন কারি : গরুর মাংসের সাথে বিভিন্ন রকমের মশলা, লেমনগ্রাস, পেয়াজ, রসুন, তেঁতুলের পেস্ট, আলু এবং নারকেল দুধ মিশিয়ে বানানো হয় মাসামান কারি। গরুর মাংসের বিভিন্ন ডিশ আমরা নিজস্ব উপায়ে খেতে অভ্যস্ত হলেও মাসামান কারি সমগ্র থাইল্যান্ডে বেশ উপাদেয় ডিশ বলেই বিবেচিত।
৫। সোম টাম (পেঁপের সালাদ) :
ছবি : ফুকেট ১০১
সোম টাম মূলত থাইদের নিজস্ব একপ্রকার সালাদ যার সাথে রাইস, চিকেন বা ফিশ ফ্রাইও খাওয়া হয়ে থাকে। সালাদের মূল উপকরণ কাঁচা পেঁপের কুচির সাথে থাকে রসুন, বরবটি, মরিচ, ছোট টমেটো, ভাজা বাদাম, শুকনা চিংড়ি ইত্যাদি। সাথে আরো মেশানো হয় তাল গাছ থেকে পাওয়া একরকম পাম সুগার।
৬। নাম প্রিক কা ফি : থাই খাবারদাবারে মাংস এবং সালাদের পাশাপাশি অন্যতম স্থান দখল করে রেখেছে বিভিন্নরকমের মাছের ডিশ। নাম প্রিক কা ফি মূলত স্টীমড ফিশ এবং শাকসবজির একটি থালা। এর সাথে থাকে চিংড়ি পেস্ত কিংবা চিলি সস যাতে ডুবিয়ে ফিশ এবং সবজি খাওয়া হয়।
৭। ফ্রাইড রাইস (খাও পাড) : আমাদের কাছে যা চিকেন ফ্রায়েড রাইস তাইই মূলত খাও পাড। আলাদাভাবে সিদ্ধ চিকেনকে ভেজে নিয়ে তাতে মেশানো হয় শাকসবজি। এর সাথে বিভিন্নরকম সস মিশিয়ে পরিবেশন করা হবে আপনার সামনে।
৮। প্যাড থাই :
ছবি : রাসা মালেয়াশিয়া
থাই অথেন্টিক খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম প্যাড থাই যার মুল উপাদান রাইস নুডুলস। এর সাথে আরও মেশানো হয় চিকেন, এগ, টফু, চিংড়ি কিংবা কাঁকড়া, স্কুইড ইত্যাদির সিজিং। তেঁতুলের রস, পাম সুগার, ফিশ সস, লেবু, মরিচ ইত্যাদির সংমিশ্রণে এই খাবারটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।
৯। ম্যাংগো স্টিকি রাইস (খাও নিয়াও মা-মুয়াং) : অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ফলমূলেরও রয়েছে বেশ সুখ্যাতি। তাই পাকা আম সহযোগে তৈরি ম্যাংগো স্টিকি রাইস স্বভাবতই বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে নিজ গণ্ডির সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথাপি গোটা বিশ্বেই বেশ বিখ্যাত এই খাবার। এর সাথে নারকেল দুধের সংমিশ্রণ একে আরও লোভনীয় করে তোলে।
১০। থাই আইসড টি :
ছবি : পিন্টারেস্ট
চা সাধারনত গরম খাওয়া হলেও থাইল্যান্ডে আগত দর্শনার্থীদের নিকট এখানকার বিভিন্নরকম আইসড টি বেশ জনপ্রিয়। ফ্লেভারের প্রকারভেদে আইসড টি এর উপকরণ এবং স্বাদ আলাদা হয়ে থাকে। এছাড়া এখানের পানীয়গুলোর মধ্যে থাই আইসড টি বেশ ঐতিহ্যবাহীও বলা যায়।
তথ্যসূত্র : ben.vivit-tours.com/eating-out-thailand-148230 https://www.thailand-trip.org/bn/nacionalnaya-kuxnya#h2_1 https://bn.delachieve.com https://www.iamtravellerbd.com/thai-street-food/ https://bn.foodmes.com/all-things-you-really-should-know-about-thai-iced-tea