কষ্টসাধ্য ট্রেকিং ট্যুর সহজে দেয়ার উপায়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ট্রেকিং ট্যুর ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ধারণা পাল্টে যাবে যেভাবে

পরিকল্পনা অনুযায়ী বেরিয়ে পরুন ট্রেকিং ট্যুরে। ছবি : লিটেল লেটার্স লিংকড

অন্যসব ট্যুর থেকে ট্রেকিং ট্যুর স্বাভাবিকভাবেই বেশি কষ্টসাধ্য। তবে ট্যুর তুলনামূলক কষ্টসাধ্য হলেও ট্রেকিং ট্যুর ম্যানেজমেন্ট অন্যান্য ট্যুর ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছুটা সহজ। ট্রেকিং ট্যুর মূলত দুই রকম হয়। তুলনামূলক ছোট ছোট ঝরনা বা পাহাড়ে সাধারণত শর্ট ট্রেকিং ট্যুর করা হয়। এরকম ঝরনার মধ্যে আছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, কমলদহ, সুপ্তধারা, দামতুয়া, হামহাম ইত্যাদি ঝরনা, সেইসাথে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মত বিভন্ন পাহাড়ও এই কাতারে পরে। এসব জায়গায় একদিনে ঘুরে ফিরে আসা যায়। অন্যদিকে আমিয়াখুম, নাফাখুম, বিলাইছড়ি, বগালেক এসব জায়গার ট্রেকিং লং ট্রেকিং ট্যুরের মধ্যে পড়ে। এসব জায়গা ঘুরতে ২-৫ দিন লাগে। সেই সাথে এসব ট্যুর বেশ কষ্টসাধ্যও।

এখন ট্রেকিং ট্যুর ম্যানেজমেন্ট এর ব্যাপারে আসি :

১। ট্রেকিং ট্যুর ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রথমেই যেখানে যাবেন সেই স্থান নিয়ে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে নিতে হবে। কতদিনের ট্যুর হবে, যাতায়াত ব্যবস্থা কী, খাবার-দাবার কী হবে, খরচ কেমন হবে সব আগেই ঠিক করে নিতে হবে।

২। লং ট্রেকিং ট্যুরে ট্যুরমেট বাছাই করে নিলে ভালো হয় কারণ অনেকেই লং ট্রেকিং-এর ধকল সইতে পারে না। সেক্ষেত্রে ট্যুর ম্যানেজারকেই ঝামেলায় পড়তে হবে।

৩। ট্রেকিং-এর জন্য অবশ্যই জুতা বা স্যান্ডেল নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে কারণ প্রচুর হাঁটতে হবে। এই ব্যাপারে ট্যুরমেটদেরও জানিয়ে দিতে হবে আগে থেকে।

৪। বাংলাদেশের প্রধান ট্রেকিং স্পটগুলো প্রধানত চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি এসব জেলায় অবস্থিত আর অল্পকিছু আছে সিলেট বিভাগে। যাতায়াত খরচ কমাতে চাইলে সিলেট বা চট্টগ্রামে মেইল ট্রেনে যাওয়া যায় আর সব জায়গাতেই লোকাল বাসে যাতায়াত করা যায়। এক্ষেত্রে আপনার বাজেট অনুযায়ী যাতায়াতের ব্যবস্থা করবেন।

৫। কিছু ট্রেকিং-এ গাইড নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। সেক্ষেত্রে আপনার কাজ আপনার টিম নিয়ে গাইড পর্যন্ত পৌঁছনো এরপর বাকিটা গাইডের নেতৃত্বে। এইক্ষেত্রে আপনার আর খুব বেশি কোন কাজ নেই।

৬। যেসব স্থানে গাইড ছাড়া যাবেন সেখানেও খুব বেশি সমস্যা হবে না কারণ ট্রেকিং-এ সাধারণত মূল খাওয়া-দাওয়া হয় সকাল ও রাতে আর দুপুরের সময়টাতে শুকনো খাবার খেয়ে কাটিয়ে দিতে হয় তাই ট্যুর ম্যানেজারের জন্য চাপ কম হয়।

৭। লং ট্যুরে সাধারণত আদিবাসী পাড়াতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়। আদিবাসীরা আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি করে না। তাই থাকা-খাওয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তা কর‍তে হয় না।

 ৮। বেশ কয়েকটি ট্রেকিং স্পটেই সেখানকার প্রশাসন বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনে থাকলে তাদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই যেকোনো ট্রেকিং-এ গেলেই সাথে অবশ্যই ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা অন্য যেকোনো পরিচয় পত্রের ফটোকপি সাথে রাখা উচিত। ট্যুরমেটদেরও এ ব্যাপারে বারবার করে জানিয়ে দিতে হবে।

৯। ট্রেকিং ট্যুরের ক্ষেত্রে ফার্স্ট এইড বক্স, মশা ও পোঁকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে স্প্রে-কয়েল, শুকনো খাবার অবশ্যই সাথে রাখতে হবে। সেইসাথে পাওয়ার ব্যাংক ও দামি জিনিসপত্র পানি থেকে রক্ষা করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পলিথিন সাথে রাখতে হবে।

১০। যেই এলাকায় ট্রেকিং করবেন কোনোভাবেই সেখানের মানুষ কষ্ট পায় বা তাদের অসুবিধা হয় এমন কাজ আপনি বা আপনার ট্যুরমেট দ্বারা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

ছবি : এ সিজন অব মাউন্টেইনস

আমাদের দেশে শর্ট ট্রেকিং ট্যুরগুলো ৫০০-১,৫০০ টাকার মধ্যে করে ফেলা যায় অন্যদিকে লং ট্রেকিং ট্যুরগুলোতে খরচ হয় ৪,০০০-৭,০০০ টাকা। আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।