ডানাকিল মরুভূমি : পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম জায়গা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ডানাকিল মরুভূমি

এই জায়গাটি হলো ডানাকিল মরুভূমি (Danakil Desert)। এই জায়গাটি ডানাকিল ডিপ্রেশন (Danakil Depression) নামেও পরিচিত। ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া সীমান্তে এই ডানাকিল মরুভূমি অবস্থিত। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চল। গড় তাপমাত্রাই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই মরুভূমিটি প্রকৃতির এক নিষ্ঠুরতম জায়গা। অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থা এই জায়গাটিকে পৃথিবীর কাছে পরিচিত করেছে। এর আয়তন প্রায় ৫২ হাজার ৮৭৯ বর্গমাইল।
হেল অন আর্থ
শুষ্ক এই এলাকাটি মূলত এর আগ্নেয়গিরি এবং ভয়ানক তীব্র তাপমাত্রার জন্য বহুল পরিচিত। এখানে রয়েছে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি, বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দেয়া গেইসার্স। এখানে বৃষ্টিপাত হয়না বললেই চলে। কদাচিৎ বৃষ্টি এখানে যেন আশীর্বাদ। এটি পৃথিবীর সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রার স্থান। বেশিরভাগ মানুষ এই জায়গাটিকে 'হেল অন আর্থ' (Hell on Earth) মনে করেন। আবার অনেকে ডাকেন 'নরকের দুয়ার' নামে। ভূতত্ত্ববিদগণ মনে করেন, এই অঞ্চলের মূল ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণ হলো আফ্রিকা মহাদেশের এশিয়া মহাদেশ থেকে আলাদা হওয়ার সময়কার টেকটোনিক প্লেটের জায়গা পরিবর্তন। এই মরুভূমিতে বেশ কয়েকটি হ্রদ রয়েছে যা লাভা প্রবাহ দ্বারা গঠিত। এই লাভার হ্রদগুলো জ্বলজ্বল করে। যা রাতের আকাশকেও আলোকিত করে রাখে। এ এক অপূর্ব দৃশ্য। এখানে রয়েছে লেক আফরিরা, যার তীরে পুরু স্যালাইন ক্রাস্টস রয়েছে। এই অঞ্চলটি ডানাকিল আল্পস দ্বারা পূর্ব দিকে প্রবাহিত। সমতল এলাকার মধ্যে ৮০০ মিটার গভীর একটি লবণ খনি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১১৬ মিটার গভীর হ্রদ 'আসেল'। এছাড়াও ৮০ মিটার গভীর হ্রদ 'আফরে' রয়েছে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে রয়েছে আফরাহাতে মারহো, ডাব্বু, আফডার ও এন্টার আলেসহ আরও বেশ কিছু আগ্নেয়গিরি।নেই কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী
পৃথিবীর অন্যতম রুক্ষ আবহাওয়ার জায়গা হওয়ার কারণে এখানে তেমন কোনও উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেখা পাওয়া যায় না। শুধু কিছু কিছু পাহাড়ের মাঝখানে কাঁটাযুক্ত বাবলা গাছ দেখা যায়। এখানে গেলে মনে হবে এটি সবুজ পৃথিবীর বাহিরের কোনও জায়গা। পরিবেশ এখানে ভয়াবহ বিষণ্ণ। এখানে লাভার পুকুরগুলোতে বুদবুদ উঠে, নানা রঙের তাপ বলয় আর লবণ মাঠের বিস্তারে চোখ ঝলসে যাবার মতো অবস্থা। এছাড়াও এখানে আছে উষ্ণ প্রস্রবণ। এসব প্রস্রবণ থেকে উঁচুতে লাফিয়ে উঠে পানি। অবাক করার ব্যাপার হলো এমন বৈরী আবহাওয়াতেও মানুষ বসবাস করে এখানে। এই অঞ্চলের অধিবাসীদের বলা হয় 'আফার'। তারা ডানাকিল মরুভূমিতে বাস করে আসছে বংশানুক্রমে হাজার বছর ধরে। এই আফারদের অধিকাংশই যাযাবর। আর তারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাদের মূল পেশা হল লবণ সংগ্রহ করে তা বাজারে নিয়ে বিক্রি করা। তারা এখানকার লবণ খনিতে কাজ করে।উটের সাহায্যে লবণ বহন করে সবচেয়ে কাছের শহরেও যেতে তাদের কমপক্ষে দুইদিন সময় লেগে যায়। লবণ সংগ্রহের পাশাপাশি তারা পশুপালনও করে থাকে। ডানাকিলের এই বৈরী আবহাওয়া তাদের শিখিয়েছে কিভাবে প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। এরকম চরম বৈরী জায়গা এ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য যেনো এক স্বর্গ। এটি বিশ্বজুড়ে সাহসী পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। যদিও এখানে ভ্রমণ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া এই মরুভূমিতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।
রুবাইদা আক্তার এস এম
