সমুদ্র সৈকত, পর্বতমালা, এডভেঞ্চার এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কেরালা; ছবি : সংগৃহীত
বিচিত্র সৌন্দর্যে ভরপুর কেরালা বেশ জনপ্রিয় এক টুরিস্ট ডেসটিনেশন। প্রশান্তিময় কেরালা আপনার ভ্রমণ জীবনের সুন্দর এক উপাখ্যান হয়ে থাকবে।
প্রথম পর্বের ধারাবাহিকতায় চলুন জেনে নেয়া যাক কেরালার আরও কিছু বিখ্যাত জায়গা সম্পর্কে যেখানে ভ্রমণপিপাসুরা ভ্রমণ করে থাকেন।
ভারকালা :
আরব সাগরের তীরজুড়ে এখানে তৈরি করা হয়েছে ফুটপাত; ছবি : ট্রিপোটো ডট কম
আরব সাগরের পাশেই অবস্থিত এটি মূলত সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত। সমুদ্র তীরের পাশেই উঁচু করে ফুটপাথের মত রাস্তা যা এর আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
রাস্তার দুপাশে সারি সারি নারিকেল গাছ যেন পর্যটকদের গার্ড অফ অনার জানায় প্রতিনিয়ত যা মন ভালো হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এখানে বেশিরভাগ হোটেল এবং গেস্ট হাউজ সৈকতের পাশেই অবস্থিত। এখান থেকে অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখতে পাওয়া যায়।
সবুজে আচ্ছাদিত ওয়াইনাদের মায়াবী পাহাড়ি সৌন্দর্য; ছবি : ট্র্যাভেল ট্রায়াঙ্গল ডট কম
পাহাড়ি এলাকা ওয়াইয়ানাদ যেন সবুজে আচ্ছাদিত। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের অভিভূত করে। প্রচুর পরিমাণে নারিকেল গাছ,বনভূমি, ধান ক্ষেত এই জায়গাটিকে অসাধারণ সুন্দর এক ভূমিতে পরিণত করেছে। মূলত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যতার জন্যই এখানে অনেক এডভেঞ্চার প্রেমী প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করে থাকেন।
চেম্বড়া চূরা, মেনমুত্তি ফলস বিখ্যাত ট্র্যাকিং এর জন্য। এছাড়াও প্রাচী জৈন মন্দির, এদাক্কাল গুহা ইত্যাদি স্থানেও পর্যটকেরা ভ্রমণ করেন।
কোভালাম :
কেরালার পর্যটক ব্যস্ত সমুদ্র সৈকত কোভালাম; ছবি : কেরালা ট্যুরিজম
কেরালার আরেকটি বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত কোভালাম। প্রধান শহর ট্রিভান্দরুম থেকে মাত্র ৪০ মিনিট দূরত্বে এর অবস্থান।
১৯৭০ সালে এটি টুরিস্ট ম্যাপে জায়গা করে নেয়া এটি বেশ ব্যস্ত ধরনের সৈকত। কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী হোটেল গুলির জন্য এখানে বেশ অনেক পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে সারা বছর।
পুভার আইল্যান্ড, নেয়ার নদী যেখানে আরব সাগরে মিশে গেছে; ছবি : পুভার আইল্যান্ড
কোভালাম থেকে ৩০ মিনিট দূরত্বেই এই পুভার আইল্যান্ড রিসোর্টের অবস্থান। মালদ্বীপের মতো অতো সুন্দর না হলেও এটি পর্যটকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।
এই জায়গাতেই 'নেয়ার নদী' আরব সাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এখানে রাত্রি যাপন বেশ অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।
জাতায়ুপারা আর্থ’স সেন্টার :
হিন্দু পুরাণে উল্লেখিত 'দ্য রামায়ণ' অনুসারে ২০১৬ সালে স্থাপিত জাতায়ুপারা আর্থ'স সেন্টার পার্ক; ছবি : কেরালা ট্যুরিজম
কেরালার নতুন এক আকর্ষণ এই জাতায়ুপারা আর্থ’স সেন্টার। কেরালার কোল্লামে ২০১৬ সালে এটি স্থাপিত হয়। ৬৫ একরজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি বিস্ময়কর।
পার্কটি হিন্দু পুরাণে উল্লেখিত 'দ্য রামায়ণ' অনুসারে বানানো হয়েছে। পার্কটির ল্যান্ডমার্ক ২০০ ফুট উঁচু স্থাপনা 'জাতায়ু'।বলা হয় যে, রাবনের কাছ থেকে সিতাকে উদ্ধার করে আনার সময় পুরাণে উল্লেখিত প্রাণীটি পাহাড়ের চূড়ায় নিহত হয়।
মনে করা হয় এর প্রজাতির মাঝে এটিই সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ রকমেরও অধিক এডভেঞ্চার মূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পার্কটিতে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো ভার্চুয়াল মিউজিয়াম, আয়ুর্বেদিক গুহা, ক্যাবল কার ইত্যাদি।
স্বর্গালয়া ক্রাফটস ভিলেজ :
'ন্যাশনাল ট্যুরিজম এওয়ার্ড' পাওয়া স্বর্গালয়া ক্রাফটস ভিলেজ; ছবি : দ্যা বেটার ইন্ডিয়া ডট কম
২০১৬ সালে স্বর্গালয়া 'ন্যাশনাল ট্যুরিজম এওয়ার্ড' পাওয়ার গৌরব অর্জন করে। পর্যটক সমৃদ্ধ এই গ্রামটি কেরালার কোঝিকোডে অবস্থিত। পর্যটকরা কারিগরদের দক্ষ হাতে করা এসব নিপুণ ক্রাফটস বা কারুকাজ দেখেন এবং ক্রয় করেন।
প্রতি বছর ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এখানে আন্তর্জাতিক কারু শিল্পের মেলা বসে। সারা পৃথিবী থেকে ৪০০ এর অধিক কারুশিল্পী মেলাতে অংশ নিয়ে থাকেন। দেশ বিদেশের বহু পর্যটক মেলাটি উপভোগ করেন।
বৈচিত্র্যময় কেরালার সবচেয়ে বড় নদ নীলা; ছবি : ট্রিপ এডভাইজর
কেরালার সব থেকে লম্বা নদীটি হচ্ছে নীলা নদী। এটি বেশ জনপ্রিয় টুরিস্ট ট্রেইল। নদীর তীর ঘেঁষে পর্যটকদের জন্য কটেজ রয়েছে। অনেক পর্যটক অবকাশ যাপনের জন্য এই স্থানটিকে বেছে নিয়ে থাকেন। শান্ত-স্নিগ্ধ নদীটি পর্যটকদের প্রশান্তি দিয়ে থাকে।
বৈচিত্র্যময় এই কেরালা পর্যটকদের ভ্রমণে বিচিত্র এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। এখানে অধিবাসীরাও বেশ অতিথিপরায়ণ। কেরালার সংস্কৃতির সাথে এসব পর্যটন স্থল ভ্রমণ যেন আপনার ভ্রমণ জীবনের এক সুন্দর স্মৃতিই হয়ে থাকবে।