দিনে দিনে সোনারগাঁও
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সোনারগাঁও
প্রতিদিনকার ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে আমরা অনেকেই বেছে নেই একদিনের ট্যুর। একদিনের ট্যুরের জন্য আদর্শ জায়গা হতে পারে ঢাকা শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও। ঈশা খাঁ-এর আমলে তাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এই জায়গার নাম হয় সোনারগাঁও। তখনকার বাংলার রাজধানী হিসেবেও-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এছাড়াও নদী বেষ্টিত হওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ন বানিজ্য নগরী হিসেবে ব্যবহৃত হত এই এলাকা। বনেদিয়ানার কিছু ছাপ এখনও রয়ে গেছে বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্য দিয়ে। ইতিহাস অনু্যায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বার ভূঁইয়াদের নিকট থেকে এই এলাকার ক্ষমতা দখল করা বেশ কঠিন ছিল বাকিদের জন্য।

সোনারগাঁও এর দর্শনীয় স্থান :
পানাম সিটি
যারা ইতিহাস ভালবাসেন পানাম সিটি হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। একসময়কার বাংলার রাজধানী হিসেবে সু-পরিচিত সোনারগাঁও-এর বর্তমান পানাম নগরের স্থাপত্য নিদর্শন ব্রিটিশ আমলের তৈরী, পুরাতন পানাম নগরী চাপা পড়েছে মাটির নিচে। এখানের লাল ইটের পুরনো দেয়াল নিমিষেই আপনার চোখের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে কোনো ঐতিহাসিক সময়। দৃষ্টিনন্দন এই প্রাচীন স্থাপত্যে আপনিও হারিয়ে যাবেন ফেলে আসা কোন সময়ে। লোকমুখে শোনা যায়, বিভিন্ন বণিক এবং সওদাগরদের আবাসস্থল ছিল এই নগরী। ক্ষয়ে যাওয়া দেয়াল হাতড়ে আপনিও পেয়ে যাবেন কালো মার্বেল পাথরে তৈরী মেঝে কিংবা হলঘর। এখনও টিকে থাকা অর্ধভগ্ন সিঁড়িতে বসে কিছুটা ইতিহাসের দরজায় কড়া নেড়ে সময় কাটানো দিতে পারে চমৎকার অনুভূতি। এছাড়া এই নগরীর মধ্যে রয়েছে মঠ-বাড়ি এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে তৈরী নীলকুঠি। নগরীর পাশ থেকে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। এছাড়া শেরশাহ নির্মিত ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্র্যাংক রোডের কিছুটা এখানে এখনো দৃশ্যমান।
লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর
১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পানাম নগরের অংশবিশেষ একটি পুরনো বাড়িতে প্রথম এই জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রাচীন বাংলার তাৎপর্যবাহী বিভিন্ন নিদর্শনের ঠাই হয়েছে এই জাদুঘরে। তৎকালীন মসলিনের সংগ্রহও রয়েছে এখানে স্ব-মহিমায়। জাদুঘরের সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার। এছাড়া অন্য যেকোনো দিন মাত্র ৫০ টাকার টিকেট কিনে ঘুরে আসতে পারেন এই সংগ্রহশালা। এছাড়া প্রতিবছর শীতকালে প্রায় মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলা হয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি এসব দিনেও মেলা বসে থাকে। কাঠের তৈরি ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, মাটির তৈজসপত্র, হাতে বোনা নকশিকাঁথাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জিনিসপত্রের সমাগম হয় এখানে।তাজমহল
পানাম নগর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলার তাজমহল। এই তাজমহল মূলত আগ্রার তাজমহলের রেপ্লিকা। তাজমহল ছাড়াও এখানে রয়েছে পিরামিড, শুটিং স্পটসহ নানারকম মন্যুমেন্ট। চলচ্চিত্র পরিচালক আহসানুল্লাহ মনি নিজ অর্থায়নে এখানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই স্থাপত্য। স্থাপত্যে ব্যবহৃত বেশিরভাগ টাইলস, পাথর ইত্যাদি আনা হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে।
শীতলক্ষ্যা নদী
নারায়নগঞ্জ শহর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন শীতলক্ষ্যার তীরে। নদীর তীরে বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে জাহাজ মেরামত এবং তৈরীর দৃশ্যও এখানে দেখা যায়। নদীতে নৌকা নিয়ে ঘণ্টাচুক্তিতে ঘুরেও আসতে পারেন সু্যোগ পেলে।যেভাবে যাবেন :
গুলিস্তান থেকে বাসযোগে মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড নেমে সিএনজি কিংবা অটোরিক্সা নিয়ে খুব সহজেই জাদুঘর কিংবা পানাম নগরীর গেটে নামা যাবে।জোহরা মহসীন এস এম