নিস : ফ্রান্সের পঞ্চম বৃহত্তম শহরে ভ্রমণ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : এই শহরে প্রাচীন স্থাপনার সাথে দেখা মিলবে চমৎকার সব নিদর্শনসমূহ

একের ভেতর সবকিছুর দেখা মিলবে নিস শহরে। ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস্

নিস ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি শহর। সৌন্দর্যে ভরপুর এই শহরটি একদিকে যেমন ফ্রান্সের ঐতিহ্যের বাহক তেমনই পর্যটন স্থান হিসেবে বেশ পরিচিত। স্থানীয়রা শহরটিকে 'নিস দা বিউটিফুল' নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। নিস শহর একসময় ব্রিটিশদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে সমুদ্রের প্রমেনডের নাম রাখা হয়েছিল, প্রমেনাড ডেস অ্যাঙ্গ্লেইস। রানী ভিক্টোরিয়া সেখানে সারাহ বার্নহার্টের সাথে বন্ধুত্ব করেছিলেন। রানী অসুস্থ থাকাকালীন বলেছিলেন, 'কেবল যদি আমি নিসে থাকতাম তবে আমি আরও ভাল হয়ে যেতাম'। ৭১ দশমিক ৯২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই শহরটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ অধিবাসীর বসবাস।

আয়তনের দিক থেকে ফ্রান্সের ৫ম বৃহত্তম শহর এটি। শহরটি বেশ প্রাচীন বলেই ধারনা করা হয়। সেখানে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে অনুমান করা হয় সেগুলো প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বছর পূর্বের এবং নিসে মানুষের পদার্পণ হয়েছিল প্রায় চার লাখ বছর আগে। তবে জানা যায়, গ্রিক জাতির লোকেরা আনুমানিক ৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শহরটি প্রতিষ্ঠা করে। খ্রিস্টীয় ১ম শতকে রোমানরা শহরটি দখল করে একটি বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। দশম শতকে প্রোভঁস অঞ্চলের কাউন্টগণ অঞ্চলটি শাসন করতেন। ১৩৩৮ সালে শহরটি সাভোয়াত কাউন্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সবশেষে ১৮৬০ সালে শহরটিকে ফ্রান্সের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এবার জানিয়ে দিচ্ছি শহরটিতে ভ্রমণ জায়গাগুলো সম্পর্কে :

ডেস অ্যাঙ্গ্ইস :

রিলাক্স করার জন্য চমৎকার একটি জায়গা ডেস অ্যাঙ্গ্ইস। ছবি : ড্রিমস্ টাইমস্ ডট কম

বিখ্যাত ডেস অ্যাঙ্গ্ইস ভ্রমণ ব্যাতিত নিস ভ্রমণ অসম্ভব । এটি বর্তমানে এই শহরের সর্বাধিক বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।

ভাইলে ভিলি : শহরটির প্রাচীন স্থাপনায় পরিপূর্ণ এই জায়গাটি।

পার্ক দে লা কল্লিন ডু চ্যাটিউ : শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত পাহাড়ের শীর্ষ থেকে ঝরনার ফোয়ারা দেখতে পর্যটকেরা ভিড় জমায় এখানে।

ক্যাথিড্রাল :

ছবি : ট্রিপ বাকেট

 ভিলে ভিলিতে অবস্থিত একটি গম্বুজ যার নাম ক্যাথিড্রাল। এটি ১৭ শতাব্দীতে তৈরি ভাস্কর্য। এই চিত্রকর্ম দশটি অলঙ্কৃত চ্যাপেল এবং একটি দৃষ্টিনন্দন বারোক নকশার সাহায্যে নির্মিত হয়েছিল।

কোর্স সালেয়া মার্কেট : এটি শহরের প্রাচীন একটি বাজার বলা চলে। স্থানীয় পণ্য এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্রের সন্ধানে অনেক পর্যটকেরাই ভিড় জমায় এখানে।

ফিনিক্স : শহরের এই পার্কটিতে পুকুর, মাছ, প্রানী এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ প্রজাতির উদ্ভিদের দেখা পাওয়া যায়। পার্কটিতে ঢুকতে তিন ইউরো খরচ করতে হয়।

মুসেই ম্যাসা : শহরটির স্থানীয় জাদুঘর এটি। এই জাদুঘরটি শহরটির ঐতিহ্য ধারন করে আছে। এখানে দেখা মেলে নেপোলিয়নের মুখোশ এবং তাঁর স্ত্রী জোসেফিনের একটি মুদ্রা এবং ১৯ শতকের ফরাসি শিল্পের কিছু সংগ্রহ।

মন্ট বোরন :

ছবি : ফ্রেঞ্চ রিভেরিয়া

১৬ শতাব্দীর দিকে নির্মিত হয়েছিলো  এই বন্দরটি। গ্রীষ্মে দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হয় স্থানটি।

ঘুরতে যাবার সেরা সময় : নিসে মূলত গ্রীষ্ম মৌসুম (জুন-আগস্ট) পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে সারা বছরই এখানে পর্যটকের ভিড় জমেই থাকে।তবে বর্ষা কিংবা শীত বিবেচনা করে যাওয়াই ভালো।

থাকা এবং খাওয়া : নিস শহর যেহেতু পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিত একটি ভ্রমণস্থান তাই এই শহরটিতে আনাচে-কানাচে রয়েছে থাকার জন্য হোটেল এবং খাবার রেস্তোরাঁ। উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে : মন্ট-বোরন, হোটেল আনিস, লে মাস ডেস সেল্ফস, হোটেল লে নেগ্রেসকো, ওয়েস্টমিনস্টারসহ আরও অনেক। স্থানীয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে সোকা, পান বাগনাট, স্যুপ ডি পোইসন সালাদ নিকোইস ইত্যাদি। খাবারগুলো স্বাদে অতুলনীয়। খাওয়ার জন্য রেস্তোরাঁ হিসেবে উল্লেখযোগ্য : লু পাইলা লেভা, কাসা মিয়া, লে শালিনার ইত্যাদি। শহরটিতে বাজেট অনুযায়ী থাকা এবং খাওয়ার সুবিধা গ্রহণ করা যায় খুব সহজেই।

যেভাবে যাবেন : শহরটিতে যেতে চাইলে প্রথমেই পাড়ি জমাতে হবে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে। ফ্রান্স থেকে শহরটিতে যাবার জন্য বিমান, ট্রেন, বাস, নৌকা বা কার সব ধরনের যাতায়াত সুবিধাই রয়েছে।

ভ্রমণ টিপস :

  • ভিন্ন দেশ ভ্রমনে অন্যের সংস্কৃতিতে আঘাত করে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ভ্রমনের পূর্বে জায়গা সম্পর্কে জেনে নিন।
  
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, উইকিট্রাভেল