বিচ বাংলো রিসোর্ট, সেন্টমার্টিন : প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকার সেরা সুযোগ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নারিকেল জিঞ্জিরার সামুদ্রিক সৌন্দর্য একান্তে উপভোগের দারুণ সুযোগ


রিসোর্টের প্রতি রুমেই জনপ্রিয় কিছু বইয়ের সন্ধান পাওয়া যাবে অবসরের সঙ্গী হিসেবে। ছবি : সংগৃহীত
রিসোর্টের প্রতি রুমেই জনপ্রিয় কিছু বইয়ের সন্ধান পাওয়া যাবে অবসরের সঙ্গী হিসেবে। ছবি : সংগৃহীত

উপরে নীল আকাশ আর দিগন্ত বিস্তৃত আরো নীল ফেনিল জলরাশির সমাহারে অপূর্ব রূপসী বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। দ্বীপের যেদিকে চোখ যায় অজস্র নারকেল গাছ আর কেয়া বনের আচ্ছাদিত সৌন্দর্যের সাথে সমুদ্র থেকে ভেসে আসা শব্দ পর্যটকদের মন জুড়িয়ে আসছে বহুকাল ধরে। ৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত সেন্টমার্টিন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩ দশমিক ৬ মিটার উঁচু। সেন্টমার্টিন ঘুরতে গিয়ে নিরিবিলি এবং একান্ত অবসর কাটাতে চাইলে আদর্শ জায়গা হিসেবে বেছে নেয়া যেতে পারে বিচ বাংলো রিসোর্ট। বেশ কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই রিসোর্টটি। দ্বীপের পূর্ব দিকের নেভি বিচের ঠিক পাশেই অবস্থিত সদ্য নির্মিত এই রিসোর্টটি। জেটি ঘাঁট থেকে প্রায় ১২মিনিটের ভ্যানযাত্রা কিংবা হাঁটাপথ ধরে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে ছিমছাম বিচ বাংলো'র।

ছবি : বিচ বাংলো রিসোর্ট


সেন্টমার্টিনের আরেক জনপ্রিয় রিসোর্ট সায়রীর ঠিক পাশেই অবস্থিত এই রিসোর্টটি ইতোমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে। পূর্ব ও পশ্চিম বিচের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই রিসোর্টের ডানে কিংবা বামে উভয় দিকেই পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখান থেকেই সাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে বিচ বাংলো’র নিজস্ব গাইডের সহযোগিতায় ঘুরে দেখতে পারেন নারকেল জিঞ্জিরার মনোমুগ্ধকর সমুদ্রতট। জেটি থেকে বেশ দূরে হওয়ার এখানে জনসমাগমও কম। সমুদ্রের পানিতে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে প্রিয়জনের হাত ধরে এক কাপ চায়ের সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন স্মৃতিময় একটা সন্ধ্যা।বিচ বাংলো রিসোর্ট ছবি : বিচ বাংলো রিসোর্ট


বিচ বাংলো'তে তিন রকমের আবাসনের সুবিধা ছাড়াও রিসোর্ট চত্বরে আলাদা ওয়াশরুম সুবিধাসহ তাঁবুর ব্যবস্থাও পাওয়া যাবে। এছাড়া কোন পূর্ণিমা রাতে চাঁদকে অবলোকন করার জন্য বিচ বাংলোর চাঁদের চৌকি তো রয়েছেই। রুমের আকারভেদে ২-৬ জনের জন্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন +880 1610-563901

  • জোড়া শালিক - ২,৫০০/- (২জন)
  • টুনটুনি - ৩,০০০/- (৪জন)
  • তিতির - ৩,৫০০/- (৬জন)
সেন্টমার্টিন এসে ছেঁড়া দ্বীপ একবার পা না ফেললে ভ্রমণের অনেকখানিই বাকি রয়ে যাবে। বিচ বাংলো থেকে হেঁটে ছেড়া দ্বীপ যেতে সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট। নির্জন এই পথটুকু জাগতিক যে কোন সৌন্দর্যের থেকে কিছুটা বেশিই। এই অদ্ভুত সৌন্দর্যের রেশ আপনার মানসপটে রয়ে যাবে অনেকদিন।

বিচ বাংলো রিসোর্ট ছবি : বিচ বাংলো রিসোর্ট

এর বাইরেও রিসোর্টটি রয়েছে স্কুবা ডাইভিং এর সুবিধা। রিসোর্টটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাহিদা অনুযায়ী স্কুবা ডাইভিং-এর আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেন্ট মার্টিন বেড়াতে এসে ফেনিল সমুদ্রের মাঝখানে একবার হারাতে চাইলে স্কুবা ডাইভিং-এর স্বাদ নেয়া যেতেই পারে। এছাড়াও সমুদ্রতটে বেড়াতে এসে প্রিয়জনকে সারপ্রাইজ দিতে চাইলে এখানে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারেরও ব্যবস্থা করা যাবে। এর জন্য গুণতে হবে ২,৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন :

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের পথে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত যাত্রীবাহী শিপ চলাচল করে। বছরের অন্যান্য সময়ে শিপের ব্যবস্থা না থাকলেও ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। ২০২০ সালে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যেও শিপের ব্যবস্থা হয়েছে।

বিচ বাংলো রিসোর্ট ছবি : বিচ বাংলো রিসোর্ট


কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া (এয়ারপোর্ট রোড) , বিআইডব্লিওটিএ ঘাঁট থেকে এই শিপ প্রতিদিন ছেড়ে যাচ্ছে। সেন্টমার্টিনের জেটি ঘাঁট থেকে বিচ-বাংলো অবধি ভ্যানের রাস্তা রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রতট ধরে হেঁটেও পৌঁছানো যাবে বিচ- বাংলোতে।

বি.দ্র. যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।