পাহাড়ের কোলে স্নিগ্ধ আমেজে দার্জিলিং-এর রক গার্ডেন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পাহাড়ের কোলঘেঁষা অনাবিল সৌন্দর্য
ছবি : ট্রাওয়েল ডট ইন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত হিমালয় কন্যা দার্জিলিং তার ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা ও দার্জিলিং হিমালয় রেলওয়ের জন্য বিখ্যাত। দার্জিলিং-এর জনপ্রিয়তা শুরু ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই। সেই সময় এটি ছিলো ব্রিটিশদের গ্রীষ্মকালীন অবসরযাপনের রাজধানী হিসাবে গড়ে উঠেছিল। ইতিহাস বলে দার্জিলিং ছিল প্রাচীন গোর্খা রাজধানী। পরে সিকিমের মহারাজা ব্রিটিশদের দার্জিলিং উপহার করেন। দার্জিলিং তার অনাবিল সৌন্দর্য এবং মনোরম জলবায়ুর কারণে ভারতের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ।
রক গার্ডেন নিয়ে যত কথা : দার্জিলিং শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই উপত্যকাটি আরেকনাম বারবটি রক গার্ডেন। দার্জিলিংয়ের হিল কার্ট ঘুরতে এসে ডানদিকে মোড় নিলে ২৫ মিনিট গাড়িতে উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাবে শহর থেকে কয়েকশ ফুট নিচে এই শীলা বাগানটিতে। যদিও পথটা বেশ বিপজ্জনক। পাহাড়ি রাস্তায় কিচ্ছুক্ষণ পর পর পাবেন খাড়া রাস্তায় ভয়ঙ্কর সব বাঁকে দেখা।
অল্প একটু অসাবধানতায় পরিনাম হতে পারে গভীর খাদে চিরসমাধি। কথায় বলে-সুন্দর সবসময়ই ভয়ঙ্কর। আর সুন্দরের টানে আমরা মানবজাতি সর্বদাই বিপদের টুঁটি টিপে ধরতে পিছপা হইনি। তাইতো রক গার্ডেন দার্জিলিং এর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। রক গার্ডেনের প্রবেশপথের দুইপাশে স্ন্যাকস ও সুভ্যেনিয়র দোকানের পসার বসিয়েছে স্থানীয়রা।
জায়গাটির নাম কেন রক গার্ডেন রাখা হয়েছে তা বুঝতে পারবেন একটুপরেই। জায়গাজুড়ে বিভিন্ন স্তরে পাথরের সমাহার। পাহাড়ের কোলঘেঁষে রয়েছে জলপ্রপাত।
পাহাড়ের কোলঘেঁষে অবিরাম বহমান জলপ্রপাত, রক গার্ডেন। ছবি : পিন্টারেস্ট
পাহাড়ের শীর্ষে উঠতে গেলে আপনাকে পেরোতে হবে পাথর কেটে তৈরি করা সিঁড়ি, ছোট ছোট ব্রিজ। আর গন্তব্যে পোঁছে গেলে উপর থেকে রক গার্ডেনটিকে মনে হবে যেন কোন সবুজ গালিচা। যদিও পাহাড় ঢিঙিয়ে উপরে ওঠা সহজ কোন কিছু নয়। পিচ্ছিল পাথর ট্র্যাকিংকে যেন আরো দূর্গম করে দিয়েছে। তবে সুন্দর বসার ব্যবস্থাসহ সব স্তরে রয়েছে ফুলের বাগান, গাছ এবং ঝোপঝাঁড়। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নেওয়ার সাথেসাথে সেখানে বসে উপভোগ করতে পারবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল রক গার্ডেনটি তৈরি করেছিল। এবং কাউন্সিলের তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব সুবাশ ঘাইসিং উদ্বোধন করেন। এটি শহর অঞ্চলের বাইরে পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল যাতে দর্শনার্থীদের পার্বত্য শহরে আসার জন্য আরও উৎসাহিত বোধ করে। দার্জিলিংয়ের উপার্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হল পর্যটন।
রক গার্ডেন থেকে আরও ৩কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত গঙ্গামায়া পার্ক। আপনি একবার পার্কের প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলে আপনি নিজেকে অনেকগুলো পাহাড়ের পাদদেশে দেখতে পাবেন। এটি একটি উপত্যকা যা পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক জলের ধারা।
পাখির চোখে রক গার্ডেন। ছবি : হলিডিফাই
জলপ্রবাহের উপরে সুন্দর ছোট ছোট সেতু তৈরি করা হয়েছে সেখান থেকে আপনি পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহিত স্ফটিক স্বচ্ছ জলের দিকে নজর দিতে পারেন। একটি ছোট লেক রয়েছে যেখানে প্যাডেল বোটে নৌকা বাইচ উপভোগ করা যায়। পার্কের শেষে, একটি সুন্দর ঝরনাও রয়েছে। আপনি যদি পার্কের চারপাশে হাঁটেন তবে অসাধারণ ফুলের বাগান, গাছ এবং ঝোপঝাড় দেখতে পাবেন।
নির্ধারিত সময় : রক গার্ডেন এবং গঙ্গামায়া পার্ক দুটি কেন্দ্রই পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ১০ রুপি। আপনি ট্যাক্সি বা জিপে করে যেতে পারেন। তবে ফেরার পথে কোন যানবাহন না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই ট্যাক্সি বা জিপ রিজার্ভ করে যাওয়াটাই ভালো।