রুচিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের পোশাক নিয়ে আর্টিস্টি কালেকশন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি পোশাক ব্র্যান্ড আর্টিস্টি
রুচিশীল পোশাকে অনন্য আর্টিস্টির কালেকশন। ছবি : আর্টিস্টি
নব্বই দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের ফ্যাশন খাতের পরিধি বাড়তে থাকে। বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নান্দনিকতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফ্যাশন জগতে আসতে থাকে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ। দেশীয় ফ্যাশনে ঘটতে থাকে বিপ্লব। আজ এই ফ্যাশন হাউজগুলো মানুষের নগর জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নান্দনিক ও রুচিশীল পোশাকের কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সবার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এদেশে প্রায় শতাধিক ব্রান্ডের ফ্যাশন হাউজ তাদের নিজস্বতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তেমনই একটি প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিস্টি কালেকশন।
আর্টিস্টি কালেকশন বাংলাদেশের প্রধান ও জনপ্রিয় ফ্যাশান ব্রান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম। 'আর্টিস্টি' একটি ইতালিয়ান শব্দ, বাংলায় যার অর্থ 'শিল্পী'। সুতরাং 'আর্টিস্টি কালেকশন' এর অর্থ দাঁড়ায় 'শিল্পীর সংগ্রহ'। আর্টিস্টি ফ্যাশান প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। তারিকুর রহমান এই ফ্যাশান ব্রান্ডটির প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর্টিস্টি কালেকশন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি পোশাক ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও তারা দেশের বাইরে ভারত, থাইল্যান্ড, চিন, মিশর, জার্মানি ও ইটালিতে পোশাক রপ্তানি করে। ২০ জন কর্মচারী নিয়ে আর্টিস্টি কালেকশন তাদের ফ্যাশন হাউজের কার্যক্রম শুরু করে। ঢাকার গুলশানে তাদের প্রথম আউটলেট চালু হয়। ধীরে ধীরে ফ্যাশন হাউজটির পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০০-এর বেশি কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশজুড়ে আর্টিস্টি কালেকশনের আউটলেট সংখ্যা এখন ১১ টি। এদের মধ্যে ৯টি আউটলেটের অবস্থান ঢাকায়, বাকি দুটি সিলেট ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। যাত্রার শুরুতে আর্টিস্টি কালেকশনে শুধুমাত্র পুরুষদের শার্ট পাওয়া যেত। সময়ের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটি ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পোশাক নিয়ে কাজ শুরু করে। পোশাকের ডিজাইন ও গুনগত মানের দিক দিয়ে আর্টিস্টি কালেকশন বাংলাদেশে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থানে চলে এসেছ।
এখানকার পোশাক তৈরির কাপড় সাধারণত বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়। কাপড় হিসেবে এরা কটন, সিল্ক, লেদার, মিশরীয় কটন ইত্যাদি ব্যবহার করে।
পোশাকের নকশাগুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ডিজাইনাররা করে থাকে। এই ফ্যাশন ব্রান্ডটি বর্তমানে আর্টিস্টি কালেকশন, আর্টিস্টি এথনিক ক্লাব, আর্টিস্টি ইটালিয়ানা, আর্টিস্টিস ইন্ডাস্ট্রি নামে বিভক্ত হয়ে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কালেকশনের পণ্যসমূহ :
ছবি : আর্টিস্টি
আর্টিস্টি পুরুষদের ফরমাল পোশাকের কালেকশন হিসেবে শার্ট, প্রিমিয়াম কালেকশন শার্ট, গোল্ড কালেকশন শার্ট, ক্লাসিক ট্রাউজার, স্যুট, ব্লেজার রেখেছে। শার্টের দাম ৯৯৫ থেকে ৫ হাজার টাকা, স্যুট ৬,৯৯৫-৯,৯৯৫ টাকা, ট্রাউজার এর দাম ১ হাজার ৯৯৫ থেকে ৩ হাজার ৪৯৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে এখানে শার্ট, পোলো শার্ট, টি-শার্ট, জিনস ইত্যাদি পাওয়া যায়।
এখানকার শার্ট, টিশার্ট এর মূল্য ৯৯৫ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৯৯৫ টাকা পর্যন্ত হয় এবং জিনস ১ হাজার ২৯৫ থেকে ২ হাজার ৯৯৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
এছাড়া ছেলেদের জন্য কুর্তা, শাল, ফতুয়া, শেরওয়ানি পাওয়া যায়। নারীদের জন্য আর্টিস্টির কালেকশনে রয়েছে থ্রিপিস, সালোয়ার কামিজ,কুর্তি ইত্যাদি। থ্রিপিসের মূল্য ২ হাজার ৮৯৫-৪ হাজার ৯৯৫ টাকা, কুর্তির মূল্য ৩ হাজার ৪৯৫-৭ হাজার ৯৯৫ টাকা। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে এখানে রয়েছে উন্নতমানের পারফিউম, জুতা, বেল্ট, মানিব্যাগ ইত্যাদি।
আউটলেট সমূহ :
১) পুতুল হাউজ, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, গুলশান-২, ঢাকা। ২) বাড়ি নং- ০৫, রোড নং- ১৩৬, গুলশান-১, ঢাকা। ৩) লেভেল- ১,২,৩, ব্লক-বি, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, ঢাকা। ৪) লেভেল- ২, ব্লক- ডি, দোকান নং- ৩২-৪৫, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, ঢাকা। ৫) আনাম র্যাংগস প্লাজা, বাড়ি নং- ৬১, রোড নং- ৬/এ, সাত মসজিদ রোড, ঢাকা। ৬) প্লাজা এআর, বাড়ি নং- ০২, রোড নং- ১৪, ধানমণ্ডি আর/এ, ঢাকা। ৭) সানরাইজ ভবন, ৯২ নিউ এলিফেন্ট রোড, ঢাকা। ৮) নাভানা বেইলি স্টার, ০৯, নিউ বেইলি রোড, ঢাকা। ৯) আরএকে টাওয়ার, প্লট- ১/এ, জসিমউদ্দিন এভিনিউ, সেক্টর- ০৩, উত্তরা, ঢাকা। ১০) সানমার ওশান সিটি (৬ষ্ঠ তলা), ইস্ট নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম। ১১) এ/৯ কুমারপাড়া, সিলেট।
ওয়েবসাইট : http://www.artisti.com.bd/