আঞ্চলিক প্রসিদ্ধ খাবার : হরেক রকম সুস্বাদু ভর্তা-ভুনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গরম গরম ভাতের সাথে যা না খেলেই নয়

গরম ভাতের সাথে বাঙালির প্রিয় খাবার। ছবি : বর্তমান প্রতিদিন

 'মাছে-ভাতে বাঙালি'-নামেই সারাবিশ্বে পরিচিত বাংলার মানুষেরা। খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দেশজুড়ে অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, দক্ষিনে বঙ্গপোসাগর ও মানচিত্রের চারপাশে সু-বিশাল জলরাশি হওয়ার কারনেই বোধয় এই নামের স্বার্থকতা নিহিত রয়েছে। সারাবছর দিন-রাত পরিশ্রম করে জেলেরা উত্তাল সমুদ্রের বুকে নৌকা ভাসিয়ে মাছ আহরণের মত কঠিন কাজগুলো করে থাকে। বহুকাল ধরে জীবন, জীবিকা, সংগ্রামের মধ্যেই তাদের সফলতার গল্পগুলো কাব্যগাঁথা হয়ে আছে। তাদের কেউ কেউ মাছ ধরে সেই মাছকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুটকি তৈরি করে সংরক্ষণ করে বছরের পর বছর। তাদের এই সংগ্রাম জীবন যাত্রার সচিত্র দেখলে বাঁচার নতুন প্রেরণা পাওয়া যায়। খাদ্যের প্রাচুর্যের কারণে বাঙালির রসনাবিলাসে নানা রকমে পদের সমাহার পরিলক্ষিত হয়। তারই ক্রমবিকাশে যুক্ত হয়েছে নানা রকমের ভর্তা ও ভুনার মত খাদ্যশৈলী। আঞ্চলিক প্রসিদ্ধ খাবারের তালিকায় রয়েছে এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য ও অনন্য খাবার।

লইট্টা শুটকি ভুনা :

ছবি : বাংলা ট্রাইবুন


 উপকরণ : ১০০ গ্রাম লইট্টা শুঁটকি, ৬/৭টি কাচা মরিচ, ১ চামচ গুড়ো মরিচ,পরিমানমত লবন, ৬টি মাঝারি আকারের পিয়াজ কুচি, মাঝারি আকারের ২টি রসুন কুচি, আধা চা চামচ হলুদের গুড়ো, তেল।

রন্ধনপ্রণালী : শুটকিগুলো ভালো করে গরম পানিতে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। একটি কড়াইয়ে তেল ঢেলে গরম করে নিতে হবে। তারপর শুটকিগুলো হালকা হলুদ ও লবন দিয়ে তেলে ছেড়ে দিতে হবে। শুঁটকিগুলো ভাজা হয়ে আসলে নামিয়ে নিতে হবে। একই তেলে পিয়াজ কুচি, রসুন কুচি, কাচা মরিচ, হলুদের গুড়ো, মরিচের গুড়ো, পরিমানমতো লবন দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে মাছগুলো ঢেলে দিতে হবে। অল্প কিছু সময় রান্না হলে তাতে পরিমানমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পানি শুকিয়ে আসলে ভাজা ভাজা অবস্থায় নামিয়ে পরিবেশন করুন লইট্টা শুটকি ভুনা। পরিবেশনের সময় ধনেপাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে করে খাবারে নতুন স্বাদ যুক্ত হবে।

বাদাম ভর্তা : ছবি : সংগৃহীত

উপকরণ : ১০০ গ্রাম ছোলা ভাজা বাদাম, ৩টা পিয়াজ কুচি, ৪টা কাচা মরিচ, স্বাদমতো লবন, পরিমানমতো সরিষার তেল।

রন্ধনপ্রণালী : ভাজা বাদামগুলো শিল-পাটায় আধা ভাঙ্গা করে নিতে হবে। একটি বাটিতে বাদাম, পিয়াজ কুচি, কাচা মরিচ কুচি, লবন, সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মেখে ও পিষে পরিবেশন করুন মজাদার বাদাম ভর্তা।

সরষে নারিকেল ভর্তা :

ছবি : এই মুহূর্তে

উপকরণ : ৪ টেবিল চামচ কুড়ানো নারিকেল, ২ টেবিল চামচ সরিষাদানা, ৬/৭টি কাচা মরিচ, স্বাদমতো লবন, অল্প সরিষার তেল।

রন্ধনপ্রণালী : নারিকেল, সরিষা, কাচা মরিচ, লবন শিল-পাটায় বেটে নিতে হবে। একটি বাটিতে মিশ্রন টি নিয়ে অল্প সরিষার তেল যোগ করে পরিবেশন করুন সরষে নারিকেল ভর্তা।

চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা :


ছবি : কুকপ্যাড ডট কম

 উপকরণ : ১০০ গ্রাম চিংড়ি শুঁটকি, ৫টা কাঁচা মরিচ,৫/৬টি শুকনো ভাজা মরিচ, ৪টি মাঝারি আকারের পিয়াজ কুচি, ২/৪টি রসুন কুচি, স্বাদমতো লবণ, পরিমানমতো সরিষার তেল।

রন্ধনপ্রণালী :  চিংড়ি শুটকিগুলোকে ভাল করে গরম পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। একটি কড়াইয়ে তেল ঢেলে গরম করে নিতে হবে। তারপর শুটকিগুলো ভালো কর ভেজে নিতে হবে। শুকনো মরিচগুলো ভাল করে ভেজে নিতে হবে। একই তেলে রসুন কুচি, কাঁচা মরিচগুলো ভেজে নিতে হবে। তারপর ভাজা চিংড়ি শুটকিগুলো শিল পাটায় বেটে নিই। একটি পাত্রে বাটা চিংড়ি শুঁটকি পিয়াজ কুচি, রসুন, কাচা মরিচ, শুকনো মরিচ, স্বাদমত লবন, পরিমানমতো সরিষার তেল দিয়ে মেখে পরিবেশন করুন মজাদার চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা।