লালিত স্বপ্ন পূরণ করুন বিদেশ ভ্রমণে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশের বাইরে বিদেশ ট্যুরে পছন্দের স্থানগুলোয় ভ্রমণ
ছবি : ডিসকভারি ট্যুর এন্ড লজিস্টিক
দেশের বাইরে ট্যুর দেয়াটা অনেকের কাছে অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন আর অনেকের কাছে শখ। যাতায়াত ও যোগাযোগের সুযোগ-সুবিধার কারণে এখন দেশের বাইরে প্রচুর ট্যুর হচ্ছে। ট্যুর গ্রুপগুলোও দেশের বাইরে ট্যুরের ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশী ট্রাভেলারদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে ভারত, নেপাল, ভুটান। ইদানীং সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডও। তুলনামূলক কম খরচ, সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যতা, সহজ যাতায়াত, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি ইত্যাদি কারণে এসব স্থানের কদর বেড়েই যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার প্রমাণ মেলে ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে টুরিস্ট ভিসায় আবেদনকারীদের ভিড় দেখে।
এছাড়াও যাদের বাজেট ভালো আছে তাদের সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালোয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন এসব জায়গার প্রতি আগ্রহই দেখা যাচ্ছে। তবে অনেকের মনে দেশের বাইরে ট্যুর নিয়ে বেশকিছু সন্দেহ কাজ করে। এছাড়াও ভাষাগত সমস্যার কারণেও অনেকে কিছুটা দমে যান। আজ আমরা সে বিষয়েই আপনাকে জানাবো। কীভাবে আপনি সহজেই দেশের বাইরে ট্যুর ম্যানেজ করতে পারেন।
১। আগে থেকেই ঠিক করে নিন কোথায় যাচ্ছেন। সেই এলাকা সম্পর্কে জানুন। সেখানকার পরিবেশ, আবহাওয়া, মানুষ, ভাষা, খাবার, বিখ্যাত ও ঘুরাঘুরির জায়গা এসব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিন।
২। যেহেতু দেশের বাইরে ট্যুর তাই পাসপোর্ট তো আছেই। খোঁজ নিন ভিসা প্রসেসিং নিয়ে। অনেক দেশের ভিসার এপ্লাই নিজেই করতে পারবেন আবার অনেক দেশের ভিসার জন্য কোন এজেন্সির সাহায্য নিতে হবে আবার কিছু কিছু দেশে অন-এরাইভাল ভিসা আছে। তাই আগে থেকেই এজেন্সি ধরে বাড়তি খরচ না করে খোঁজ নিয়ে জানুন উপায় কী কী। সেই দেশের এম্বাসির ওয়েবসাইট এবং অনলাইনে এই সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে। ভিসা এপ্লিকেশন করতে যা যা ডকুমেন্ট লাগে তা সম্পূর্ণ ঠিকঠাক করে নিলে ও ভিসার জন্য ভাইভাতে সন্তোষজনক উত্তর দিলে ভিসা পেয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি।
৩। কোন মাধ্যমে যাবেন তা ঠিক করে নিন। অনেক দেশের ভিসা এপ্লাই করার জন্য টিকিট দেখাতে হয়। ভারতে আপনি বাস, ট্রেন, বিমান সব মাধ্যমেই যেতে পারেন। ভারতের ওপর দিয়ে ট্রানজিট ভিসা নিয়ে বাসে যেতে পারেন নেপাল ও ভুটান। আর বিমানে তো যাওয়ার সুযোগ থাকছেই। কিছু দেশে শিপে যাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। এটা যদিও বেশ সময়সাপেক্ষ ও খরচও বেশি। তবে চাইলে এই অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন
৪। যেই দেশে যাচ্ছেন সেখানকার নিয়মিত ব্যবহার্য কিছু ভাষা জেনে নিন। অনেক দেশের লোকেরাই ইংরেজি সহজে বুঝে না। তাই দরকারি কিছু ভাষা যেমন : হাই-হ্যালো, হোটেল কোথায়, গাড়ির স্টপেজ কোথায় এই ধরণের কিছু জিনিস শিখে রাখুন। সেই সাথে আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নিন।
৫। গ্রুপ ট্যুর হলে দায়িত্ব ভাগ করে নিন নিজেদের মধ্যে। কেউ যদি টাকা-পয়সার দায়িত্বে থাকেন, আরেকজনকে তাহলে গ্রুপের বাকিদের সাথে যোগাযোগের দায়িত্ব দিন। এভাবে করলে সবার ওপরই চাপ কমে আসবে।
৬। গ্রুপের দুই/তিনজন লোকাল ফোনের সিম কিনে নিবেন। কখনও গ্রুপ ভাগ হয়ে গেলে যাতে সিম আছে এমন কেউ সব গ্রুপেই থাকে নাহলে কোন সমস্যা হলে জানতে পারবেন না।
৭। পাসপোর্ট সাথে রাখবেন সব সময়, কোনো কারণে হোটেলে জমা দিতে হলে হোটেল থেকে টুরিস্ট হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবেন এমন কাগজ সাথে রাখবেন।
৮। কোনো সমস্যায় লোকাল পুলিশ ও হোটেল অথরিটির সাহায্য নিন।
৯। অবশ্যই বাজেট থেকে কিছু টাকা বেশি রাখবেন হাতে। যে কোন সময় প্ল্যান চেঞ্জ বা জেনে রাখা তথ্য ভুল হলে বাজেট বেড়ে যেতে পারে।
১০। এমন কিছু করবেন না যাতে বাইরের দেশে আমাদের দেশের বদনাম হয়।
১১। ইমিগ্রেশনে ধৈর্য ধারণ করবেন ও কোন প্রশ্ন করলে যথাযথ জবাব দিবেন। তারা চেক করতে চাইলে চেক করতে দিবেন নাহলে ইমিগ্রেশনেও সমস্যা হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে।
কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না।